ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে দুদকে বিএনপির চিঠি

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ক্ষমতাসীন দল ও সরকারের দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দিয়েছে বিএনপি।

আজ সোমবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ওই চিঠি দুদকে জমা দেয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, 'ওই প্রতিনিধি দলে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ছাড়াও দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টিপু ছিলেন। তারা ফিরে এলে চিঠির কপি গণমাধ্যমে পাঠানো হবে।'

এর আগে, আজ সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকে চিঠি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে বর্তমানে দুর্নীতির একটি মহোৎসব চলছে। আপনারা এখন সাহস করে অনেক কিছু লিখেছেন, যার মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু জানতে পারছি। আমরা দুর্নীতির বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছি। সরকারের এক উপদেষ্টা (সালমান এফ রহমান) ও আইনমন্ত্রীর (আনিসুল হক) টেলিফোন কনভারসেশন আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। সেই কনভারসেশনে যে বিষয়গুলো ছিল- সেটা আমরা জানতে চেয়েছিলাম, এর তদন্ত হয়েছে কী না, তাও জানতে চেয়েছিলাম। ফরিদপুরের অত্যন্ত সেনসিটিভ একটি পরিবার, সেই পরিবারের এক সদস্যের বিরুদ্ধে ২ হাজার কোটি টাকা অর্থপাচারের অভিযোগ এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।'

'এ বিষয়গুলো ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। আর কোনো কথাই হচ্ছে না এগুলো নিয়ে। আমরা দলের সর্বোচ্চ ফোরামে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমরা দুর্নীতির এই বিষয়গুলো নিয়ে আপাতত দুর্নীতি দমন কমিশনে চিঠি দেব। সেই চিঠিতে তাদেরকে আমরা তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করব। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি ইস্যু আমরা জাতির কাছে তুলে ধরব এবং একইসঙ্গে দুদকে পাঠাব', যোগ করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আজ দুপুরে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল 'উপদেষ্টা ও মন্ত্রীর টেলিফোন কনভারসেশনের বিষয়বস্তু' ও 'ফরিদপুরে ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের বিষয়ে' তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের চিঠি নিয়ে যাবেন বলে জানান মহাসচিব।

তিনি বলেন, 'আমরা আশা করব- দুদকের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং আমরা দুর্নীতির যে অভিযোগগুলো দিচ্ছি সেগুলোর ওপর সুষ্ঠু তদন্ত করে তা তারা জাতির সামনে তুলে ধরবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'

দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না দুদক

মির্জা ফখরুল বলেন, 'দুদক অত্যন্ত সেনসেটিভ ইস্যুগুলোর ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, দুর্নীতি দমন কমিশনে একটু যারা কাজ করতে চান, তাদের স্টাফ অর্থাৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাদের বিরুদ্ধে দুদকই ব্যবস্থা নেয়। কিছুদিন আগে দেখেছেন যে, একজন কর্মকর্তা শরীফকে বদলি করা হয়েছে এবং পদাবনতি করা হয়েছে একটি বিশেষ দুর্নীতির মামলার তদন্ত করার কারণে।'

'আজকে পত্রিকায় আছে, দুর্নীতি দমন কমিশন নিজেরাই দুর্নীতির যেসব বিষয়গুলো আসছে, সেগুলো তদন্ত করে যে রিপোর্টগুলো আসছে, সেগুলো তারা আমলে নিচ্ছে না এবং সেগুলোকে তারা ধামাচাপা দিয়ে রাখার ব্যবস্থা করছে', বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'দুদকের বেশিরভাগ সরকারি আমলাকে নিয়োগ দেওয়া হয় অথবা সাবেক আমলাদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তারা অত্যন্ত সচেতনভাবে চেষ্টা করেন যে, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যারা আছেন অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা যারা আছেন, তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত যাতে না হয় এবং দুর্নীতির মধ্যে তারা যেন না আসেন।'

'বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ধ্বংস করে ফেলার জন্য দুর্নীতি সবচেয়ে বড় ব্যাধি। এটা এখন ক্যান্সার আকারে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও পাবেন না যে, ঘুষ দেওয়া ছাড়া কোনো কাজ হবে না, কথা শুনবে না, আইন-আদালতে বিচার পাবে না এবং সবচেয়ে খারাপ অবস্থাটা হচ্ছে আদালতে, সেখানে সব হুকুমে কাজ হয়, সেখানেও কোনো কাজ হয় না দুর্নীতি ছাড়া', বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'এর কারণ হলো- সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।'

দুর্নীতির ওপর শ্বেতপত্র এখন নয়

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, 'এ মুহূর্তে আমাদের শ্বেতপত্র প্রকাশের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা এখন দরকার নেই। তবে সেটা (শ্বেতপত্র) সক্রিয় আলোচনার মধ্যে আছে, বিবেচনার মধ্যে আছে।'

সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উপস্থিত ছিলেন।

পরে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু দুদকের উদ্দেশ্যে গুলশানের কার্যালয় থেকে রওনা হন।