খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিষয়ে যা বললেন চিকিৎসকরা

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

আজ বুধবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে বসুন্ধরা এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছান বেগম খালেদা জিয়া। এভারকেয়ারে রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা, ইমেজিং, ব্লাড ও ইউরিন পরীক্ষা, লিভার ফাংশন টেস্ট, কিডনি ফাংশন টেস্ট, হার্টের টেস্টসহ কয়েকটি পরীক্ষা শেষে সাড়ে ৬টার পর বাসায় ফেরেন তিনি।

আজ সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসায় আনার পর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, 'এভারকেয়ার হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষে তার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে দেখছেন। পরীক্ষার রিপোর্টগুলো পেলে পরবর্তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, 'যে মানুষটি এভারকেয়ার হাসপাতালে তিন অকেশনে প্রায় ৬ মাস ভর্তি ছিলেন, তিনি কতটা সুস্থ থাকতে পারেন? অনেকে অনেক কথা বলে। আজকের বাস্তবতা হচ্ছে উনি অসুস্থ। উনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। আপনারা সবাই দোয়া করবেন, উনি যাতে সুস্থ হয়ে উঠেন। উনি নিজেও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।'

চিকিৎসক জাহিদ আরও বলেন, 'মানুষের অসুস্থতা নিয়ে যারা ব্যঙ্গ করেন, যারা কথা বলেন তাদেরকে বুঝ দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর হাতে, আমাদের পক্ষে এটা সম্ভব না। উনি যদি অসুস্থ নাই হতেন তাহলে আজকে উনার মেডিকেল চেকআপের কী প্রয়োজন ছিল।'

এছাড়া মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসার সামনে ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, সহ প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, মহানগর সদস্য সচিব আমিনুল হক, যুবদলের নেতা সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, এসএম জাহাঙ্গীর ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক আল মামুনসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

এভারকেয়ার হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে।

৭৬ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারসন কয়েক বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, দাঁত, চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর গত বছর তাকে কয়েক দফায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। পরে নভেম্বরে তার 'পরিপাকতন্ত্রে' রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসের কথা জানান চিকিৎসকরা। সেসময়ে তিনি টানা ৮১ দিন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে তিনি গুলশানের বাসা 'ফিরোজায়' ফেরেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের দুই মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। ২০২০ সালের মার্চে দণ্ড স্থগিত করে বিশেষ বিবেচেনায় তাকে মুক্তি দেয় সরকার। এরপর থেকে গুলশানের ভাড়া বাসায় থাকছেন তিনি।