ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সরকারকে হটাতে হবে: খন্দকার মোশাররফ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কোন স্বৈরাচার সরকার আপসে ক্ষমতা ছেড়ে বিদায় নেয়নি। অতীতে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থান তাদের হটাতে পেরেছে। একইভাবে আজকের এই স্বৈরাচার সরকারকে হটাতে হবে। এটাই জনগণের প্রত্যাশা।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে একটি হোটেলে বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে তিনি এই কথা বলেন।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, বাংলাদেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশ ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছে গেছে। আজকে যারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে তারাই এই দেশকে ধ্বংস করেছে। দেশের জনগণ আর এই স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আমাদের এখন দায়িত্ব এই সরকারের হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করা।
সরকার হটানোর আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী দেশপ্রেমিক সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া বলেন, দেশের অনেক দলের শীর্ষ নেতারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন। তাই আমরা সবাই মিলে যদি একসাথে কাজ করি তাহলে দেশকে অন্ধকার থেকে উদ্ধার করতে পারব। এই ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারব।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—আমরা নাকি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছি। কিসের ষড়যন্ত্র? এই সরকারকে তো দেশের মানুষ আর চায় না। আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার, আপনারা ভালো মানুষের মতো চলে যান। আর তা যদি না হয় আপনাদের বিদায় আরও করুণভাবে হবে।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী গত কয়েকদিন ধরে বলছেন, সরকারের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র চলছে। আমি আমার গণতান্ত্রিক অধিকার চাই, আমি আমার ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমি একটি নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে গণতান্ত্রিক পন্থায় একটি নির্বাচন চাই। এসব কি ষড়যন্ত্র? এই বক্তব্য নিশ্চয়ই কোন ষড়যন্ত্র নয়। সরকারের মন্ত্রীদের এমন বক্তব্য তাদের ভেতরের নার্ভাসনেসের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। গত দুটি নির্বাচনের মতো আগামী নির্বাচনও যদি হয় তাহলে বাংলাদেশ একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে নিমজ্জিত হবে।
গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশের একটা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। এ জন্য আমাদের যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।
রাষ্ট্র বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, সরকার শুধু উন্নয়নের কথা বলেন। কিসের উন্নয়ন হয়েছে। এদেশের মানুষের তো উন্নয়ন হয়নি। মানুষের উন্নয়ন না হলে কোনো উন্নয়নই ফলপ্রসূ হবে না। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরে আমরা বুঝেছি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্ভব নয়। দেশের সব রাজনৈতিক দলের উচিত হবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া।
এদিন বেশ কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা গণঅধিকার পরিষদে যোগদান করেন। তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া।
গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, এনপিপির চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল করিম ভুইয়া, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব আহসান হাবীব লিঙ্কন, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ, কবি ও লেখক ফরহাদ মাজহার, ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।