জিয়াউর রহমান নামে মুক্তিযোদ্ধা, মনেপ্রাণে ছিলেন পাকিস্তানি: হানিফ
জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ট ছিলেন দাবি করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, 'জিয়াউর রহমান নামে মুক্তিযোদ্ধা, মনেপ্রাণে ছিলেন পাকিস্তানি। তিনি কোথাও যুদ্ধ করেছেন বলে প্রমাণ নেই।'
আজ বুধবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কক্সবাজার জেলা শাখার তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। আর দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি-সমৃদ্ধি এসেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগের হাত ধরেই দেশের সব অর্জন।'
মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, 'জিয়াউর রহমান নামে মুক্তিযোদ্ধা, মনে প্রাণে ছিলেন পাকিস্তানি। তিনি কোথাও যুদ্ধ করেছেন বলে প্রমাণ নেই। সিলেট অঞ্চলে যুদ্ধ করার যে ইতিহাস বিএনপি বলে তার প্রমাণ নেই। বরং বিভিন্ন দালিলিক তথ্যে প্রমাণ মিলেছে জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট।'
'জিয়াউর রহমান রাজাকারের দোসর ছিলেন বলেই ক্ষমতায় গিয়ে রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন করেছিলেন। শীর্ষ রাজাকারদের বানিয়েছিলেন এমপি-মন্ত্রী,' যোগ করেন তিনি।
মাহাবুব উল আলম হানিফ আরও বলেন, 'বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক। এ সম্পর্ক চিরকালের। ইচ্ছা করলেই কেউ তা মুছে ফেলতে পারবে না। আওয়ামী লীগকে যারা নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিল বরং তারাই নিশ্চিহ্ন হয়েছে।'
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পৃথিবীর সেরা মিথ্যাবাদী বলে মন্তব্য করেন হানিফ। তিনি বলেন, 'মির্জা ফখরুল পৃথিবীর সকল মিথ্যাচারকে ছাড়িয়ে গিয়ে ইতিহাসে রেকর্ড গড়েছেন।'
বুধবার সকালের এই সভায় জেলার ১০ উপজেলা, ৪ পৌরসভা ইউনিট ও সব স্বীকৃত সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৩ হাজার তৃণমূল প্রতিনিধি অংশ নেন।
তবে এ সভার মঞ্চ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী চেয়ারম্যানদের নামিয়ে দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের নামিয়ে দেন।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'আমি কাউকে অপমান করতে চাই না। আশা করি আমি বলার পরে বিদ্রোহী প্রার্থী যারা মঞ্চে আছেন তারা নেমে যাবেন।'
ওই ঘোষণা দেওয়ার আগে সভার মঞ্চে বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সম্প্রতি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দল থেকে বহিষ্কার হন।
কক্সবাজার জেলা শহরের একটি হোটেলে এই তৃণমূল প্রতিনিধি সভা আয়োজন করা হয়।
সভায় সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান।