দুঃখ হয় যখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের রান্নার রেসিপি দেন: ফখরুল
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুঃখ হয় যখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের রান্নার রেসিপি দেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা রাস্তায় নেমে এসেছি কারণ মানুষের ন্যূনতম যেটা প্রয়োজন চাল, ডাল, তেল, লবণ—এগুলোর দাম এখন আর আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নেই।
আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, সরকার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনার সুযোগ করে দিতে পারছে না। তারা বলেছিল, ১০ টাকা কেজি চাল দেবে। এখন চালের কেজি কত? ৭০ টাকা। রোজার মাঝে আমরা শসা কিনতে পারি না, বেগুন কিনতে পারি না। দুঃখ হয় যখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের রান্নার রেসিপি দেন। তিনি বলছেন, মিষ্টি কুমড়া দিয়ে বেগুনী বানাও। যখন তারা পারছে না চাল-ডাল-বেগুন দিতে তখন তারা এসব কথা বলছে। তথ্যমন্ত্রী কাল আরেকটা তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন। মূল্য বৃদ্ধির পেছনে নাকি বিএনপির কারসাজি আছে। সারাক্ষণ বলতে থাকে যা কিছু ঘটে তার পেছনে নাকি বিএনপি। তা বিএনপি যদি সব কিছু ঘটাতে পারে তাহলে তোমরা ক্ষমতায় আছো কেন? ক্ষমতা ছেড়ে দাও। বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে দাও। দেখো আমরা দেশ চালাতে পারি কি না।
আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত যখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল তখনো একই অবস্থা ছিল। ৭৪ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনা করতে না পেরে, মানুষকে খাবার দিতে না পারায় দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। লঙ্গরখানায় গিয়ে খাবার নিয়ে আসতে দেখেছি। আওয়ামী লীগের ইতিহাস হলো চুরির ইতিহাস। লুটপাট-ডাকাতির ইতিহাস। মানুষকে জিম্মি করে তারা ক্ষমতায় যায়। ক্ষমতায় গিয়ে তারা নিজেদের আখের গোছায়।
গ্যাসের দাম বাড়ছে, এখানে প্রতি বছর ২০ কোটি টাকার গ্যাস চুরি হচ্ছে। একজন বিখ্যাত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেছেন, বাংলাদেশ এখন যারা ক্ষমতায় আছে তাদের গ্যাস উত্তোলনের কোনো ইচ্ছা নেই। কারণ আমদানি করলে অনেক বেশি পয়সা পাওয়া যায়। যাদের দিয়ে আমদানি করেন, নাম তো সবাই জানেন। অনেকে বলেন দরবেশ। সেই দরবেশ আমাদের শেয়ার বাজার লুট করেছে। এখন গ্যাসের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিয়ে মানুষের পকেট কেটে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। করোনার শুরুতে ভারত থেকে ভ্যাকসিন আনতে গিয়ে কোটি কোটি টাকা পকেটে ঢুকিয়েছে, বলেন ফখরুল।
আওয়ামী লীগ আবারও এক তরফাভাবে নির্বাচন করতে চায় অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকার মুষ্টিমেয় কিছু লোককে বড়লোক করার জন্য গোটা রাষ্ট্রকে ব্যবহার করছে। যারা প্রতিবাদ করছে তাদের তারা গ্রেপ্তার করছে, সাজা দিচ্ছে। মতিঝিলে ইশরাককে গ্রেপ্তার করেছেন, কারণ প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল। মিথ্যা মামলা দিয়ে আবার তারা শুরু করেছে নতুন খেলা। এই খেলা খেলে তারা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে চায়। সব বিরোধী দলকে আটক করে মিথ্যা মামলা দিয়ে একতরফাভাবে নির্বাচন করতে চায়।