নাটোর জেলা আ. লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

নিজস্ব সংবাদদাতা, নাটোর

জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নাটোর সার্কিট হাউজে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় নাটোর সার্কিট হাউসে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে নাটোর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান চুন্নু, প্রচার সম্পাদক মশিউর রহমান, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীর নাফিউল ইসলাম অন্তরসহ দুগ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। 

আহতদের নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে নেতা-কর্মীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ছাড়া গুরুতর আহত তোতা মিয়াকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

৭ বছর পর রোববার নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা সার্কিট হাউসে আসার কথা শুনে দুপুর থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান গ্রুপের নেতা-কর্মীরা সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন।

এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গনে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। 

পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় সার্কিট হাউজের সিড়ি ও ফুলের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুটি পক্ষ সার্কিট হাউজের অভ্যন্তরে ধস্তাধস্তি করে। এতে কয়েকজন আহত হন। কিন্তু কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সার্কিট হাউজের আশেপাশে মোতায়েন আছে।'

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সার্কিট হাউজের প্রবেশ পথেই পরিকল্পিতভাবে আমার কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। সংসদ সদস্যের লোকজন আবারও পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যেকোনো সময় আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালাতে পারে।'

সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বহিরাগত সন্ত্রাসীরা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিষয়টি জানেন। তবে রোববারের সম্মেলন শান্তিপূর্ণ রাখতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।'

এর আগে শনিবার দুপুরে হরিশপুর ইউনিয়নে শংকর ভাগ পিরজিপাড়ায় সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম মাসুম ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওসমান আলী প্রাংয়ের ছেলে শফিকুল ইসলাম কালিয়ার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক এমরান সোনারের অনুসারী আফতাব হোসেন (৪০), জিয়ারুল ইসলাম (২৪), আহমদ আলী (৬০), আসাদুল ইসলাম (২৬) ও সুলতানের (৪৬) ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।