নারায়ণগঞ্জে বাম গণতান্ত্রিক জোটের হরতালে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ১০
ভোজ্যতেল, চাল, ডালসহ খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে অর্ধবেলা হরতাল সমর্থনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এতে বামজোটের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৬ টায় শহরের চাষাঢ়া গোলচত্বর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোজ্যতেল, চাল, ডালসহ খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে অর্ধবেলা হরতাল সমর্থনে সকাল পৌনে ৬ টায় শহরের দুই নং রেল গেইট এলাকায় সিপিবির কার্যালয়ের সামনে থেকে বাম গণতান্ত্রিক জোট নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু সড়কে মিছিল বের হয়।
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব হয়ে মিছিল চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর ঘুরে চেম্বার রোড হয়ে মন্ডলপাড়া মোড় ঘুরে পুনরায় চাষাঢ়া যায়। সাড়ে ৬টার দিকে চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর ঘুরতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীদের উপর লাঠিপেটা শুরু করেন।
তারপরও মিছিল করে দুই নম্বর রেল গেইট এলাকায় আসে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। পরে আবারও মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়।
পরে বাধ্য হয়ে সৈয়দ আলী চেম্বারের সামনে হরতাল সমর্থনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা। এসময় পুলিশ সমাবেশেরর নেতাকর্মীদের ঘেরাও করে রাখে।
আহতরা হলেন, সিপিবি শহর কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজয় রায় চৌধুরী বিকু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, বাসদ ফতুল্লা ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য সচিব মোফাজ্জল হোসেন, বাসদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সদস্য সামিউল, নির্মল, আনিছ হোসেন, ছাত্র ফ্রন্টের জেলার সদস্য রাহাত আহামেদ, প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, গণসংহতির সদস্য আওলাদ হোসেন ও উজ্জল।
বাম গণতান্ত্রিক জোট নারায়ণগঞ্জ জেলা সাবেক সমন্বয় ও সিপিবি জেলার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। কোথাও কোনো ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলা করা হয়নি। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালিয়ে লাঠিপেটা করে পুলিশ। এতে আমাদের অন্তত ১০ জনের মতো নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
বাম গণতান্ত্রিক জোট নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক ও বাসদ জেলার আহ্বায়ক নিখিল দাস বলেন, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের বাজার দর যে হারে বেড়েছে সেটা আমাদের দেশের মানুষের ভীষণভাবে কষ্ট হচ্ছে। এ কারণে যখন বাম জোট হরতাল ডেকেছে তখন মানুষ হরতালকে সমর্থন করেছে। হরতাল সমর্থনে আমাদের নেতাকর্মীরা ভোর ৬ টা থেকে রাজপথে অবস্থান করছে। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে মিছিল করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে সদর থানার ওসি শাহ জামানের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী আমাদের উপর হামলা করে। পুলিশের হাতের লাঠি না, মোটা মোটা কাঠ দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের হাত কেটে রক্ত বের হয়েছে। এমনকি আমাদের নারী কর্মীরা পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। হামলাকারী পুলিশের শাস্তি দাবি করছি।
তিনি আরও বলেন, হরতাল, আন্দোলন সংগ্রাম একটি গণতান্ত্রিক অস্ত্র। এ গণতান্ত্রিক অস্ত্র আওয়ামী লীগও বারে বারে ব্যবহার করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার যেহেতু নির্বাচিত সরকার না, ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে সুতরাং জনগণের প্রতি তার কোনো দায় নাই। সুতরাং এই পুলিশ প্রশাসনের নামে এই পুলিশ লীগ দিয়ে বাস্তবে এ হামলাটা পরিচালনা করছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমাদের হরতাল ১২টা পর্যন্ত চলবে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় যে ঘোষণা আসবে আমরা সেইভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।'
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজামান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, অভিযোগ করার জন্য অভিযোগ করছে তারা। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা দূর থেকে দেখছি তাদের মিছিল থেকে বিকট শব্দের পর ধোয়া। তখন আমরা তাদের বাধা দিয়েছি। তারা ককটেল ফাটিয়ে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে পুলিশ তো দাঁড়িয়ে থাকবে না।'
ককটেল ফাটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পুলিশের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে নিখিল দাস দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, পুলিশ নিজেদের দোষ ঢাকার জন্য এসব মিথ্যা অভিযোগ করছে।'
এদিকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের অর্ধবেলা হরতালে শহরে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ভোরে যানবাহন কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানবাহনের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাস, ট্রেনসহ অন্যান্য গণপরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। সকাল থেকে দোকান, বিপনী বিতান, শপিংমল বন্ধ থাকলেও ৯টা থেকে খুলতে শুরু করে। তবে ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত কোথাও কোনো ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাইনি। আমরা সর্তক আছি। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে। কেউ কোনো বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
পুলিশের লাঠিচার্জ ও নারীর উপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, 'এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।'