নির্বাচন ইসি করে না, প্রশাসন করে: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু
বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, নির্বাচন কমিশন তখনই কার্যকর হবে যখন নিরপেক্ষ সরকার থাকবে। নির্বাচন তো নির্বাচন কমিশন করে না, নির্বাচন করে প্রশাসন। আর প্রশাসন থাকে সরকারের অধীনে।
আজ শনিবার দুপুরে সার্চ কমিটি গঠনে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরে প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমাদের দলের অবস্থান খুব পরিষ্কার এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সার্চ কমিটি বা যা-ই করা হোক, যে নির্বাচন কমিশনই হোক। এই সরকার থাকলে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না এবং এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এটার বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সরকার তো অনেক কিছুই বলে। এর আগেও যে কমিটি করেছিল, বলেছিল কমিটি নিরপেক্ষ, তারপর আমরা যে কমিশন পেয়েছিলাম সেটা বোধ হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘন্যতম নির্বাচন কমিশন। দেখা যাক কী হয়। সবচেয়ে বড় কথা নির্বাচন তো নির্বাচন কমিশন করে না, নির্বাচন করে প্রশাসন। আর প্রশাসন থাকে সরকারের অধীনে। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না সেটা প্রমাণিত হয়ে গেছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের দল থেকে কেউ আইনের কথা বলেছিল বলে আমার মনে পড়ে না। কেউ যদি বলে থাকে সেটা তার ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয়ভাবে কোনো মতামত দেওয়া হয়নি আইনের ব্যাপারে। আমরা বলে এসেছি, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অসুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত, যখন বাইরে ছিলেন উনি বলে এসেছেন যে, এই সরকারের অধীনের কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এখনো আমরা মনে করি এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। যে নির্বাচন সরকার থেকে করবে, সে নির্বাচনে যত বড় কমিশনই করা হোক না কেন, কোনো কিছুতে কিছু হবে না।
সার্চ কমিটি আমার কাছে নিরপেক্ষ মনে হয় না। কারা আছে, কারা নেই...নিরপেক্ষতা অন্য ব্যাপার। কে থাকল-কে থাকল না তাতে নিরপেক্ষ হয়ে গেল না। বিএনপি নির্বাচন কমিশন নিয়ে আগ্রহী না। এমন একটি সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে, এমন একটি প্রশাসন থাকবে যে প্রশাসন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবে। যেটা '৯১-এ দিতে পেরেছে, ৯৬-এ দিতে পেরেছে। নির্বাচন কমিশন তখনই কার্যকর হবে যখন নিরপেক্ষ সরকার থাকবে, বলেন টুকু।