নৌকার বিপক্ষে ভোট চাইলে অবরুদ্ধের ঘোষণা উপজেলা চেয়ারম্যানের
নৌকার বিপক্ষে ভোট চাইলে তাদের অবরুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন শরীয়তপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম তপাদার।
সোমবার রাতে ডোমসারের ভর্তাইসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিজান মোহাম্মদ খানের একটি নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন উপলক্ষে ওই জনসভার আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, নৌকার বিপক্ষে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী প্রার্থী) সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাস্টার মজিবুর রহমানকে উল্লেখ করে তিনি এই ঘোষণা দেন।
গতকাল মঙ্গলবার আবুল হাসেম তপাদারের বক্তব্যের ৬ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিওটি আজ বুধবার দ্য ডেইলি স্টারের হাতে এসে পৌঁছায়। ভিডিওতে দেখা যায়, আবুল হাসেম তপাদার নৌকার সমর্থকদের উদ্দেশে বলছেন, 'এই মিটিংয়ের পরে আপনারা প্রস্তুত হয়ে থাকেন, আমরা নির্বাচন জানি, বুঝি। নৌকার বিপক্ষে, বিদ্রোহী মজিবরের পক্ষে যে ভোট চাইবে, কালকে থেকে তাদের তালিকা করে আমাকে দেবেন। তালিকা দেবেন। আমি এ জনসভায় বলতে চাই, যে ভোট চাইবে মজিবরের পক্ষে, নৌকার বিপক্ষে। তালিকা করে দেবেন। সমস্ত দায়-দায়িত্ব আমরা নেব, এই মঞ্চের নেতৃবৃন্দ নেবেন। কোন ভোট চাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। আমার কথা পরিষ্কার।'
তিনি আরও বলেন, 'আমার মাননীয় সংসদ সদস্য ও আমার মধ্যে চুল পরিমাণ বিভক্তি নাই। আমি যা বলি তিনি তা করেন, তিনি যা বলেন, আমি তা শুনি। আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমরা চাই ৩ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা চাই, এই ডোমসারের মাটিতে কোথাকার মজিবর, আমি চিনি না বিদ্রোহীকে। আওয়ামী লীগের ঠিকানা আছে, শেখ হাসিনার ঠিকানা আছে, আমাদের সকলের ঠিকানা আছে। ওর ঠিকানা কে? ওর কি চেক দিবেন। নেতা যেখানে, কর্মীরা সেখানে। কর্মী যেখানে, ভোট সেখানে। কর্মী নাই, ভোট নাই। তোর নেতা নাই। কর্মী নাই, ভোট কোথায়?'
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'একটা কর্মী ঘরে বসে থাকবেন না। আমরা হুকুম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোথাকার মজিবর, কে? ওরেসহ ভোট চাইতে দেওয়া হবে না। হবে না, হবে না। আমরা জীবন দিয়ে হলেও জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকা বিজয় করব।'
তিনি আরও বলেন, ডোমসারের ৯টি ওয়ার্ড, রাস্তা-ঘাট যেখানে পাওয়া যাক, নৌকার বিপক্ষে যে ভোট চায় আমাকে তালিকা দেবেন। আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নেব। মিটিংয়ের পরে সিদ্ধান্ত আসবে। আমরা মঞ্চের সবাই সিদ্ধান্ত দেব। সিদ্ধান্তের কোন বিকল্প নেই। সিদ্ধান্তের বাইরে নেতা-কর্মীরা যাবেন না। যখনই সিদ্ধান্ত দিব, তখনই রাস্তা-ঘাটে এদেরকে অবরুদ্ধ করা হবে।'
বক্তব্যের বিষয় জানতে চাইলে আবুল হাসেম তাপাদার দ্য ডেইলি স্টারকে মুঠোফোনে বলেন, 'এসব কথা আমি বলিনি। একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এখন কতো কিছুই এডিট করে বসানো যায়। এ অভিযোগ সত্য নয়। কেউ হয়তো বাড়তি কথা এডিট করে জুড়ে দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। আমি এর প্রতিবাদ জানাই।'
উল্লেখ্য, নৌকার প্রার্থী মিজান মোহাম্মদ খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ডোমসার ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সদস্য। ওই কমিটির একটি তালিকা দ্য ডেইলি স্টারের হাতে এসেছে।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিজান মোহাম্মদ খান উপজেলা চেয়ারম্যানের আত্মীয়। তিনি কখনোই আওয়ামী লীগ করেননি। এখনো তিনি ডোমসারের একটি ওয়ার্ডের বিএনপির কমিটির সদস্য। উপজেলা চেয়ারম্যানের চেষ্টায় তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন। এমন ক্ষোভের কারণে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা নৌকার পক্ষে মাঠে নামছেন না। সেই ক্ষোভ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান এমন বক্তব্য দিয়েছেন।'
ডোমসার ইউপির স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান মুঠোফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাকে ও আমার কর্মীদের নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে দিচ্ছে না। আমার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছিল। প্রকাশ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান হুমকি দিচ্ছেন। আমি আমার এবং আমার কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত আছি।'
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ডোমসার ইউপির রিটার্নিং কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনকে এই বিষয়ে কোন অভিযোগ করা হয়েছে কি না জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হুমকী দেওয়ার কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে, যদি কেউ অভিযোগ করেন, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'