পটিয়ায় যুবলীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৩: মামলা হয়নি ২ দিনেও
চট্টগ্রামের পটিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার যুবলীগের ২ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে যুবলীগের ৩ কর্মী গুলিবিদ্ধ হলেও আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার জাঙ্গলখাইন ইউনিয়নে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য যুবলীগের দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সবুজ এবং অন্যটির নেতৃত্বে আছেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এয়ার মোহাম্মদ ওরফে বাবর।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবর গ্রুপের কয়েকজন ওই এলাকায় গেলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকেরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
এতে বাবর গ্রুপের জমির উদ্দিন (৫২), মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫), মো. ইকবাল হোসেন (৪০) গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধ ৩ জনকে সে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ায় আহতদের আজ বৃহস্পতিবার শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাবর যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক বদিউল আলমের অনুগত।
খবর পেয়ে বদিউল আলম মঙ্গলবার রাতেই চমেক হাসপাতালে যান।
যোগাযোগ করা হলে আজ বিকেলে বদিউল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তার অনুসারীরা কয়েকজন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ইফতার মাহফিলের আমন্ত্রণ জানাতে সেদিন জঙ্গলখাইন ইউনিয়নে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, 'তারা যখন মোটরসাইকেলে করে ফিরছিল তখন দলের ভেতরের হাইব্রিড লোক পেছন থেকে তাদের ওপর হামলা চালায়।'
হামলাকারীরা বেশিরভাগই জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার বলে দাবি করেন তিনি।
'যদি আমার কর্মীরা হামলার জন্য সেখানে যেত, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের কেউ না কেউ তো আহত হতো। কিন্তু তা হয়নি,' বলেন তিনি।
তবে শাহাদাত হোসেন সবুজ হামলার ঘটনায় তার অনুসারীদের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আহতরা সবাই বহিরাগত। তারা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এলাকায় এসেছিল।'
তিনি বলেন, 'মঙ্গলবার রাতে বহিরাগতরা এলাকায় এসে মোটরবাইকে শোডাউন দিলে, স্থানীয় উত্তেজিত লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়।'
গোলাগুলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'স্থানীয়রা তাদের ওপর আক্রমণ করলে, বহিরাগতরা তাদের সঙ্গে থাকা অস্ত্র থেকে গুলি চালাতে শুরু করে। তারা নিজেদের ছোঁড়া গুলিতে নিজেরা আহত হন।'
এদিকে আজ বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানান পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার।
কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আহতদের পরিবার মামলা না করলে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে যায়।'
'আমরা আমাদের মতো করে তদন্ত করছি এবং ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছি,' যোগ করেন তিনি।