পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপির ২ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
নোয়াখালীতে বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়ার পথে একটি মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দলটির ২ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।
গতকাল বুধবার দিনগত রাতে সুধারাম থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোজাফফর আলী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় জেলা যুবদল সভাপতি সাবেরকে প্রধান আসামি, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খানকে দ্বিতীয় আসামি করা ছাড়াও ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুই থেকে আড়াইশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খানকে বুধবার রাত ৩টার দিকে জেলা শহরের কলেজ পাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম থানার পুলিশ। সুধারাম থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'বুধবার বিকেলে বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। একইসঙ্গে ককটেল হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে পুলিশের একজন এসআইসহ ৩ জন পুলিশ ইটের আঘাতে আহত হন।'
ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি জেলা যুবদলের নেতা নুরুল আমিন খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বৃহস্পতিবার দুপুরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বুধবার বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করেনি বরং পুলিশই বিনা কারণে বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা দিয়েছে এবং নেতা-কর্মীদের ধাওয়া ও লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করেছে। এতে দলের ৬-৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'বিএনপিকে কোণঠাসা করার জন্য পুলিশ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাজানো মামলা দায়ের করেছে, যা খুবই নিন্দনীয়। মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার এড়াতে দলের নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।'
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় বিএনপির কর্মসূচির অংশ হিসবে বুধবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা বিএনপির উদ্যোগে নোয়াখালী প্রেস ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ সড়ক দিয়ে মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশ বাধা দেয়। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ ৩ পুলিশ এবং বিএনপির ৭ জন আহত হয়।