পেনশনের নামে লুটের কায়দা-কানুন হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

পেনশনের নামে সরকার আরেকটা 'লুটের কায়দা-কানুন' করছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও উপজেলা পর্যায়ের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির দাবিতে সারা দেশে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১১ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আজকে আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণভাবে একটা লুটেরা দলে পরিণত হয়েছে। লুটপাট করে, সম্পদ লুট করে, বিদেশে পাচার করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, এখন নাকি গণপেনশন দেবে, মানুষকে পেনশন দেবে।'

bnp_rally_press_club_262.jpg
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: এমরান হোসেন

সর্বজনীন পেনশনের নামে সরকার লুটের কায়দা-কানুন করতে যাচ্ছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, 'মানুষের কাছ থেকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে টাকা নেবে। এর মধ্যে মারা গেলে আর ফেরত পাবে না। পরিষ্কার করে কিছু বলছে না। যদিও এটা পাস হয়নি কিন্তু এই প্রস্তাব তারা নিয়ে এসেছে।'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখবেন শুধু মাত্র কী করে লুট করা যায়, কী করে মানুষের পকেট কাটা যায় সেই ব্যবস্থা তারা করেছে। তারা মানুষের কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। এই সরকারের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে লুটপাট করছে না।'

'আজকে সমস্ত বাংলাদেশে একটাই সমস্যা। সমস্যা হচ্ছে-আওয়ামী লীগ। মানুষ এখন আওয়ামী লীগকে তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু মনে করতে শুরু করেছে। মানুষ গালিও দেয়—এই তুই মানুষ না, আওয়ামী লীগ। গ্রাম-গঞ্জে সব জায়গায় এটা হয়ে গেছে।'

'দুর্নীতির কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা দেখছি ন্যায্যমূল্যের পণ্যের ট্রাকে লাইন লম্বা হচ্ছে। সেই লাইনে মধ্যবিত্তরাও যাচ্ছেন কারণ তাদেরও প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের দাম প্রতিবছরে ২-৩ বার করে বাড়ানো হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম ধাপে ধাপে প্রতি বছর ২-৩-৪ বার করে বাড়ানো হচ্ছে। পানির দাম বার বার বাড়ানো হচ্ছে।'

'এর কারণ একটাই—এই সরকার তার নিজের এবং সমস্ত প্রশাসন যন্ত্রকে দুর্নীতির একটা স্বর্গরাজ্য বানিয়ে দিয়েছে। পানির দাম বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে, ওয়াসার যে এমডি আছেন তাকে তিন বার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার বেতন কত জানেন? কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা। এই যে অপচয়, এই যে একজন বিশেষ লোককে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়ার কাজটা করছে সরকার।'

তিনি বলেন, 'চালের দাম বাড়ছে কেন? উৎপাদনের তো ঘাটতি আছে। প্রতি বছর সরকারকে ৫৭ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে হচ্ছে। তারা মিথ্যা কথা বলে সারাক্ষণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। কুইক রেন্টাল ও বিদ্যুতের দ্রব্যসামগ্রী আমদানি করতে যে দুর্নীতি হয়েছে তাতে দাম বাড়ানোর আর উপায় থাকছে না।'

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, 'আপনারা দেখেছেন কয়েকদিন আগে আইনমন্ত্রী ও এক উপদেষ্টার টেলিফোন আলাপ ফাঁস হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে যিনি এই সরকারের আইটি উপদেষ্টা সেই সঙ্গে তিনি বিদেশে থাকেন, তার একটা বিশেষ প্রজেক্ট নিয়ে তারা কথা বলছিলেন। আমরা বার বার বলেছি, এই বিষয়টা পরিষ্কার করে বলতে হবে, জনগণকে জানাতে হবে।'

ফখরুল বলেন, 'আওয়ামী লীগ নিজেরা পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, গণতান্ত্রিক লড়াই করেছে-এটা সত্য কথা। তাদেরকে আমি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই, এই গুম করে, খুন করে, হত্যা করে, নির্যাতন করে কোনো দিন জনগণের আন্দোলনকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। এটা কোনো দিন করা যায়নি।'