পৌর কর্মচারী হত্যা মামলা: আ.লীগের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

পাবনার সুজানগরে পৌর কর্মচারী আল আমিন হত্যার ঘটনায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করার জন্য আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব।

আল আমিন হত্যার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের আসামি করার প্রতিবাদে আজ সোমবার পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আসামিদের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। 

অন্যদিকে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন দাবি করেছেন, হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং আসামিদের বাঁচাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ ধরনের দাবি করেছেন। 

এর আগে গত ১৪ মার্চ পাবনার সুজানগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুজানগর পৌরসভার টিকাকর্মী আল আমিন (২৭) নিহত হন এবং তার ভাই রজব আলিকে গুরুত্বর আহত আবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

এ ঘটনায় সুজানগর পৌরসভার সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন তোফা ও তার ভাই যুবলীগ নেতা জুয়েল, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা মিলনসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ৩৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার।  

এ ঘটনায় সাবেক মেয়র তোফা, তার ভাই পৌর যুবলীগ সভাপতি মো. জুয়েল, তাদের কর্মী গৌর ও লিটনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওহাব বলেন, পারিবারিক শত্রুতা ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পৌরসভার কর্মচারী আল আমিনকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে নিতে সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীনের প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৩৩ জন নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
 
ওহাব দাবি করেন, যাদের এ মামলায় আসামি করা হয়েছে তারা ওই দিন সুজানগর বা পাবনায় ছিলেন না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের আসামি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নেতাকর্মীদের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি। 

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা হয়ে এভাবে হত্যাকারীদের পক্ষ নেওয়ায় হত্যার প্রকৃত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।' এতে সুষ্ঠু তদন্ত বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। 

শাহীন বলেন, 'হত্যাকারী যেই হোক তার পক্ষ নেওয়া মানে সেই হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করা। আমি সেটা কখনই করি না। ওই মামলার বাদীও আমি নই। যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।' 

আসামিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সমর্থক হওয়ায় তিনি এ ধরনের দাবি করছেন বলে জানান শাহিন। 

তিনি বলেন, 'উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আব্দুল ওহাব নিহতের পরিবারের পাশে না দাড়িয়ে হত্যাকারীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ারে কারণে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।'