প্রতিমন্ত্রী পলকের ব্যানার খুলে ফেলার অভিযোগ নাটোর যুবলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদদাতা, নাটোর

নাটোরে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে টানানো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের শুভেচ্ছা ব্যানার খুলে ফেলা এবং শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে খোদ জেলা যুবলীগের সভাপতি বাশিরুর রহমান খান চৌধুরী এহিয়ার বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে অভিযোগ বিষয়ে জেলা যুবলীগ সভাপতি বাশিরুর রহমান খান ডেইলি স্টারকে জানান, যেহেতু বিলবোর্ডের মালিক তিনি নিজে, সে কারণে পলকের ব্যানার টানানোর জন্য বিলবোর্ড ভাড়া দেওয়ায় তিনি তার পার্টনারের সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে পলকের ব্যানার খোলার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।

আজ বুধবার দুপুরে নাটোর কানাইখালী পুরাতন ব্যাসস্ট্যান্ডে বাশিরুর রহমান খানের অফিসের ওপর ব্যানার টানানোর সময় তার নির্দেশে সমর্থকদের সে ব্যানার খুলতে বাধ্য করা হয় বলে প্রতিমন্ত্রী পলকের কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ করেন। পরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পুনরায় ওই ব্যানার টানানো হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় বাশিরুর রহমান খান বলেন, 'যে ভবনে বিলবোর্ড টানানো হয়েছে, সেটি আমার নিজস্ব। এখানে আমি এবং আমার পার্টনার আযম বিলবোর্ড ভাড়া দেই। আইসিটি মন্ত্রণালয় বিলবোর্ডটি ভাড়া নেয় আমার পার্টনারের কাছ থেকে। সেখানে মন্ত্রণালয়ের ব্যানার লাগানোর কথা। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের ব্যানার না লাগিয়ে পলকের নিজস্ব ব্যানার লাগানো হয়েছে। যেহেতু নাটোরে গ্রুপিং রাজনীতি চলছে, পলকের ব্যানারের কারণে এমপি শিমুল আমাকে ভুল বুঝতে পারেন, সে বিষয়টি আমার ব্যবসায়িক পর্টনার আযমকে বলেছি। আমি বিলবোর্ড খোলার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। পলকের স্ত্রী আমাকে সন্ত্রাসী বলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে আসার মানেই কি আমরা সন্ত্রাসী?'

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ব্যানার খুলে ফেলা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অনৈতিক কাজ। আওয়ামী লীগ নেতা এবং প্রতিমন্ত্রী পলকের ব্যানার খোলার সঙ্গে জড়িত বাশিরুর রহমান খানের গ্রেপ্তার এবং যুবলীগের পদ থেকে তাকে বহিষ্কারের দাবি জানাই।'

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মিলনমেলা ও আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে উৎসবমুখর করতে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার টানানোর নির্দেশ দেই। আমি নিজে ওই ব্যানারের ডিজাইন করি এবং ছাত্রলীগের এক নেতা ও শিল্পীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি সাজিয়ে নেই। শুনেছি, যুবলীগ সভাপতি বাশিরুর রহমান খান সশস্ত্র অবস্থায় ওই ব্যানার খুলতে বাধ্য করেন ও নেতা-কর্মীদের মারধর করেন।'

তিনি আরও বলেন, 'কার নির্দেশে একজন যুবলীগ নেতা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও সংসদ সদস্যকে অপমান এবং বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত ব্যানার খুলে ফেলার দুঃসাহস পান? এ বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করি, কেন্দ্রীয় নেতারা এর বিচার করবেন।'

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এ অভিযোগ ভিত্তিহীন। ঘটনার সময় বাশিরুর রহমান খান আমার সঙ্গেই ছিলেন। পরে তিনি নিজেই ওই ব্যানার টানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই।'