ফরিদপুরে রাস্তা কাটা নিয়ে আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৩০
ফরিদপুরের সালথায় রাস্তা কাটাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দীন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেনের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কয়েক মাস আগে নওপাড়া গ্রামের মধ্যদিয়ে একটি রাস্তা কাটার উদ্যোগ নেন কামাল। কিন্তু গিয়াসের সমর্থকরা তাদের জমির ভেতর দিয়ে ওই রাস্তা কাটতে বাধা দেন। একপর্যায় রাস্তা কাটা বন্ধ হয়ে যায়।
বুধবার সন্ধ্যায় গিয়াস ও কামালের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এতে উভয় দলের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দীন বলেন, 'গ্রামে রাস্তা কাটা নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের সাথে আমার লোকজনের বিরোধ চলছিল। বুধবার বিকালে কামালের সমর্থকরা আমার বাড়ির উপর এসে আমার সমর্থক ইলিয়াস শেখকে বেধরম পিটিয়ে আহত করে। পরে আমার সমর্থকরা প্রতিবাদ করলে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে ইলিয়াস শেখ, শহিদুল শেখ, মেহেদী শেখ, ইব্রাহিম মোল্যা, নাসির মোল্যা, রিপন মাতুব্বর ও আমিনুর মাতুব্বরসহ আমার অন্তত ১৫ সমর্থক আহত হয়।'
জানতে চাইলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, 'রাস্তা কাটাসহ গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে প্রতিপক্ষের সাথে আমাদের অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার বিকালে আমার সমর্থক আহাদ মাতুব্বর, হেমায়েত মাতুব্বর, ইউসুফ মোল্যা ও দেলোয়ার মোল্যা স্থানীয় কাগদী বাজার থেকে ফেরার পথে গিয়াসের বাড়ির সামনে থেকে তাদের উপর হামলা চালায় তার সমর্থকরা। এ সময় তারা রড ও হাতুড়ি দিয়ে আমার সমর্থকদের পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ নিয়ে পরে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় আমার অন্তত ১৫ সমর্থক আহত হয়েছে।'
সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মো. সুমিনুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।