বিএনপি অপপ্রচার না চালালে সুখী দেশের সূচকে আমরা আরও এগুতে পারতাম : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, 'যদি বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ক্রমাগতভাবে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত না থাকতো, অপপ্রচার না চালাতো এবং দেশের মানুষকে নানাভাবে অসুখী করার অপচেষ্টায় নিয়োজিত না থাকতো, তাহলে মানুষের সুখ সমৃদ্ধি আরো বাড়তো, ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস ইনডেক্সে আমরা আরও এগুতে পারতাম, কারণ এই সূচকের অন্যতম বিষয় হচ্ছে মানুষ নিজেকে সুখী মনে করছে কি না।'

আজ রোববার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন তিনি।      

মন্ত্রী বলেন, 'বিএনপি নয়াপল্টন অফিসে বসে প্রতিদিনই আমাদের বিদায় ঘণ্টা বাজাচ্ছে। তাদের ঘণ্টা বাজানোতে জনগণ সাড়া দেয়নি। জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে আওয়ামীলীগের সঙ্গে আছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই বিএনপি বলে আসছে এই সরকারের দিন ঘনিয়ে আসছে। তারা যতই একথা বলছে জনগণ ততই আমাদের পক্ষে আসছে।' 

আগামীতেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, 'সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রকাশিত সুখী দেশের সূচকে বাংলাদেশ আগের চেয়ে ৭ ধাপ এগিয়ে গেছে। এই করোনার মধ্যেও বাংলাদেশে সুখ সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে আমাদের অবস্থান ছিল ১০১ বর্তমানে তা ৯৪ নম্বরে উন্নীত হয়েছে, যেখানে ভারতের অবস্থান ১৩৬ পাকিস্তানের অবস্থান ১২৬। আমরা ভারত-পাকিস্তান থেকেও এগিয়ে।'

মন্ত্রী আরও বলেন, 'এই করোনা মহামারির মধ্যে যখন বিশ্ব অর্থনীতি প্রচন্ড চাপের মধ্যে আছে, অনেকের মতে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা চলছে, সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের যে সুখ-সমৃদ্ধি বেড়েছে, ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস ইনডেক্সে বাংলাদেশের ৭ ধাপ অগ্রগতিই তার প্রমাণ।' 

'বিএনপি প্রতিদিন অপপ্রচার চালাচ্ছে, প্রেসক্লাবের সামনে, পল্টনে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ করে মানুষকে অসুখী করার চেষ্টা করছে। তাদের এই অপচেষ্টার মধ্যে ৭ ধাপ এগিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই সম্ভবপর হয়েছে,' বলেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, 'আশা করি বিএনপি মানুষকে ক্রমাগতভাবে অসুখী করার যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে এই রিপোর্টের পর তারা তা থেকে নিবৃত হবেন এবং সরকারকেও অভিনন্দন জানাবেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকালও প্রেসক্লাবে গিয়ে বিএনপি ঘরানার সাংবাদিকদের সামনে অনেক কথা বলেছেন  তারা যে কথা বলছেন জাতিসংঘের এই রিপোর্টের পরে তাদের লজ্জা হওয়া উচিত।'

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম যে স্বাধীনতা ভোগ করে তা অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদাহরণ। যেভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যম ও  সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন। গত ১৩ বছরে যেভাবে গণমাধ্যমের বিকাশ ঘটেছে এবং তারা যে স্বাধীনতা ভোগ করছে তা অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশেও নেই।'

এসময় রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধান, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াৎ হোসেন সফিক, এইচএন আশিকুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার সাদাত সম্রাট, জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।