‘বিডিআর বিদ্রোহের সেনা তদন্ত প্রতিবেদন না প্রকাশের পেছনে ষড়যন্ত্র আছে’

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার পেছনে ষড়যন্ত্র আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার সকালে বনানী সেনা কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, 'এটা (বিডিআর বিদ্রোহ) শুধু একটা বিদ্রোহ ছিল না, এর পেছনে একটা সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র ছিল। এর মূল কারণ ছিল যে, সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং এটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। ওই বিদ্রোহের পেছনে সত্যিকার অর্থে কারা ছিল, এর সুষ্ঠু তদন্ত রিপোর্ট আমরা এখনো পাইনি এবং সেনাবাহিনী যে তদন্ত করেছিল, তারও রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।'

'আজকে দুর্ভাগ্য আমাদের যে, এতো বছর পরও তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত করা সম্ভব হয়নি। এর পেছনে কারা ছিল, কেন এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছিল? আমরা মনে করি, এই যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না, এর পেছনে ষড়যন্ত্র আছে।'

এই দিবস উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় বনানীর সামরিক কবরস্থানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নেতৃবৃন্দ তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।

Fakhrul
বিডিআর বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে সকালে বনানীর সামরিক কবরস্থানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সারোয়ার হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর এম এ হাসান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর কোহিনুর আলম নূর, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আজিজ রেজা প্রমুখ ও মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপির শামীমুর রহমান শামীম এবং শায়রুল কবির খান।

পরে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, পিপলস পার্টির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ডিএলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি ও  ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির আবু তাহের প্রমুখ আলাদাভাবে নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

মির্জা ফখরুল ২৫ ফেব্রুয়ারির ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, '২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি গোটা জাতির জন্য অত্যন্ত শোকাবহ দিন এবং একইসঙ্গে একটা আতঙ্কের দিন। এজন্য যে, এই দিনে ঘটনা-দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে, এই বিদ্রোহের মধ্যে দিয়ে আমাদের জাতির সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ সেনাবাহিনীর ৫৭ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছিল।'

'১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধেও আমাদের এতো কর্মকর্তা চলে যাননি। একেবারে ৫৬ কর্মকর্তা চলে যাননি, একজন সৈনিক চলে গেছেন', যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, 'আমরা আজকে এখানে এসেছি আমাদের যারা অত্যন্ত মহান, জাতির গৌরব, জাতিকে রক্ষা করার জন্য, দেশকে রক্ষা করার জন্য শপথ নিয়েছিলেন, তাদের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে এসেছি এবং বিএনপি ও আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, তিনি যেন যারা চলে গেছেন তাদের বেহেস্ত নসিব করেন।'