ভূমধ্যসাগরে কাদের সলিল সমাধি হয়েছে, নাম প্রকাশ করুন: ফখরুল
ভূমধ্যসাগরে যাদের সলিল সমাধি হয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ সোমবার সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান। এদিন সকালে তিনি সন্ত্রাসী হামলায় আহত গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আজিজের সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্যের জের ধরে ফখরুল বলেন, কাদের ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হয়েছে তাদের নামগুলো প্রকাশ করুন। যারা গুম হয়েছে, তাদের মধ্যে কারা কারা গেছে। তাহলে কি আমরা মনে করবো আপনারা জানেন ভূমধ্যসাগরে আপনারা কাদের কাদের সলিল সমাধি করেছেন? আমি বিষয়টি জানতে চাই।
বিএনপি নেতার ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, হত্যার উদ্দেশ্যে আব্দুল আজিজের ওপর হামলা হয়েছে। স্থানীয় যে সংসদ সদস্য আছেন তার প্রশ্রয়ে এগুলো করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১ যুগ ধরে সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার ব্যাপারটা, ভয়-ভীতি-ত্রাস সৃষ্টি করে তারা বাংলাদেশে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এটাই হচ্ছে তাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের জনগণ কখনোই এ ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেনি, গণতন্ত্র হত্যা করা, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া—অবশ্যই এ দেশের মানুষ সংগ্রমের মধ্য দিয়েই তাদের অধিকার ফিরিয়ে আনবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, আবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যা যা করা দরকার তাই করছে। তারা আইন প্রণয়ন করেছে, যেটা আমরা মনে করি সম্পূর্ণভাবে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। জনগণ এটা চায়নি। আর সার্চ কমিটি ওল্ড ওয়াইন ইন দ্য নিউ বটল। গত দুবার যেভাবে করেছে, সেই একইভাবে একটা খোলস লাগিয়ে; মানুষকে প্রতারণা করা যে, আমরা এভাবে করছি, সুন্দরভাবে করছি, আমরা সবার কাছ থেকে মতামত নিচ্ছি—তারপর দেখা যাবে হুদার মতো লোকজনকেই করবে। এই সার্চ কমিটির মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একজন আছেন যিনি আওয়ামী লীগ থেকে নোমিনেশন চেয়েছিলেন। এই ধরনের সার্চ কমিটি তারা তৈরি করবে সেটা আমরা আগে থেকেই জানি। জানি বলেই আমরা সার্চ কমিটি করার ব্যাপারে, প্রেসিডেন্টের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে না করে দিয়েছি। এখনো বলছি এই নির্বাচন কমিশন বা সার্চ কমিটি যদি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হয়, এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হবে না যদি নির্বাচনকালে আওয়ামী লীগ সরকার থাকে। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।
নিবন্ধিত দলের কাছ থেকে নামে প্রস্তাব নেওয়ার বিষয়ে ফখরুল বলেন, আমাদের কাছে এগুলোর কোনো মূল্য নেই, অর্থহীন। নাম দেওয়ার তো প্রশ্নই উঠতে পারে না। গতবার, তার আগের বারের অভিজ্ঞতায় দেখেছি এগুলোতে কোনো লাভ হয় না। সরকারের পছন্দনীয় কমিশন তারা তৈরি করবে। সেটাই তারা করে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। কারণ ওই নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করবে না।
রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর পর কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি এখন গোটা বিশ্বে স্বীকৃত। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। মানবাধিকার লঙ্ঘন করার জন্য বাংলাদেশের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা তখনই আসে যখন মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় এবং জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করে সরকার।
মিয়ানমারের ওপর একই নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের একই চরিত্র। মিলিটারি জান্তার সঙ্গে এদের কোনো পার্থক্য নেই। এরা জনগণকে বন্দুকের নল দিয়েই দমিয়ে রাখছে, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।