ভোটকেন্দ্রে র্যাবের সঙ্গে শামীম ওসমানের বাদানুবাদ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে। একটি কেন্দ্র দখলের চেষ্টার সময় ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর লাঠিচার্জ এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের পর ছুটে গিয়ে র্যাব কর্মকর্তার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান শামীম ওসমান।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৬৯নং পশ্চিম মাসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি বাথরুমে অবরুদ্ধ
এনায়েতনগর ইউনিয়নের পশ্চিম মাসদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ইউপি সদস্য প্রার্থী শাহ জাহানের পক্ষ নিয়ে প্রভাব বিস্তারের জন্য শতাধিক সমর্থক নিয়ে যান নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ। 'জয় বাংলা' স্লোগান দিয়ে তারা সেখানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেন। পরে পুলিশ ও র্যাব তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে রিয়াদসহ কয়েকজন স্কুলের বাথরুমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পুলিশ ও বিজিবির তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত হলে রিয়াদ বের হয়ে যান। এ কিছুক্ষণ পরই ভোটকেন্দ্রের বাইরে একটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। তবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইউপি সদস্য প্রার্থী জাকারিয়া জাকির সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহজাহান মাতবরের পক্ষে সিল মারছিলেন।
ভোটকেন্দ্রে শামীম ওসমান
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় বিকেল সোয়া ৩টায় কেন্দ্রে যান শামীম ওসমান। তাকে অভিযোগ করে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ বলেন, 'আমাদের কুত্তার (কুকুর) মতো পিটিয়েছে'। তখন শামীম ওসমান উপস্থিত র্যাব কর্মকর্তাদের অভিযোগের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন।
জবাবে সিদ্ধিরগঞ্জের র্যাব-১১ এর স্কোয়াড্রন লিডার এ কে এম মনিরুল আলম বলেন, 'ওদেরকে মারি নাই স্যার। ওরা দেখেন এসব জিনিসপত্র নিয়ে (ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোটা দেখানো হয়) আসছে। ওখানে ককটেল আছে। তারা এখানেই ছিল। আপনি সবাইকে জিজ্ঞাসা করেন।'
জবাবে শামীম ওসমান বলেন, 'এখন নারায়ণগঞ্জ আপনি সামাল দেন। দেখি আপনি পারেন কিনা আর আমি পারি কিনা। আপনি ছাত্রলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারিকে চোরের মতো মারবেন?
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, 'আমি সর্বদা চেষ্টা করব। ব্যাপারটা ওইরকম নয় স্যার। চোরের মতো পিটানো হয় নাই স্যার। তাদের প্রতিহত করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে আসায়।
এ সময় সাংবাদিকেরা শামীম ওসমানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কিছু না বলেই চলে যান।
র্যাব-১১ এর স্কোয়াড্রন লিডার একেএম মনিরুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমরা তথ্য পেয়েছিলাম যে, ভোটকেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সেখানে গিয়ে আমরা কিছু অবাঞ্ছিত লোকজনকে ভোটকেন্দ্রে অবাধে যাতায়াত করতে দেখি। ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে আমরা তাদের প্রতিহত করি। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ লাঠি, দুটি ছোরা এবং একটি তাজা ককটেল উদ্ধার করি। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।
এ ব্যাপারে মন্তব্য জানতে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার আফরোজা খাতুন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'একজন প্রার্থীর এজেন্টকে বের করে দেওয়া নিয়ে একটা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।'
ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধারের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কেউ আমাকে জানায়নি।'
শামীম ওসমানসহ রাজনৈতিক নেতাদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ বিষয়ে তিনি বলেন, 'প্রিজাডিং অফিসাররা কেউ অভিযোগ দেয়নি। তাই আমার জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'