যদি সাহস থাকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেখুন: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি শেখ হাসিনাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি- যদি সাহস থাকে আপনারা একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেখুন। মানুষ আপনাদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করবে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার পাঁচরুখী এলাকায় আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন এ কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা সরকারকে বলেছি পদত্যাগ করেন। আপনারা সব জায়গায় ব্যর্থ হয়েছেন। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। প্রত্যেকটি কাজে ব্যর্থ হওয়ার জন্য আপনাদের এখন পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগ করুন এবং নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।'
তিনি বলেন, 'আমাদের ধৈর্য রাখতে হবে। ধৈর্য না রাখলে আমরা কোনো যুদ্ধে জয়ী হতে পারব না। আমরা যুদ্ধে জয়ী হতে চাই। আমরা অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। ৩ বছর ধরে তিনি বন্দি অবস্থায় আছেন। তারা বলে যে, আমরা ৬ মাস করে তার সাজা স্থগিত করছি। এটা হচ্ছে আরেকটি কৌশল- কীভাবে তাকে আটকে রাখা যায়। প্রকৃতপক্ষে তিনি এখন গৃহবন্দী হয়ে আছেন।'
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ইস্পাতের মতো ঐক্য গড়তে হবে। এর মধ্যে অনেকে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করবে। নিজেদের মধ্যে বিরোধ লাগাতে চেষ্টা করবে। তাদের কথায় কান দিবেন না।'
মির্জা ফখরুল বলেন, 'আজকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। চালের দাম, তেলের দাম বেড়েছে। সয়াবিনের দাম নিয়ে তেলেসমাতি কাণ্ড হয়েছে। এখন অন্যান্য শাকসবজির দামও অনেক বেড়ে গেছে। অথচ ২০০৮ সালের নির্বাচনে বলেছিল, ১০ টাকা কেজি চাল দেবে। এখন ৭০ টাকা কেজি চাল। ঘরে ঘরে চাকরি দেবে বলেছে, চাকরি দিয়েছে? দিয়েছে ছাত্রলীগ ও ২০ লাখ টাকা ঘুষ যে দিতে পারে তাদের। কৃষকদের বলেছিল বিনামূল্যে সার দেবে। কিন্তু, এখন ইউরিয়া সার ১২০০ টাকা। দাম বাড়ছেই। কৃষক তার পণ্যের সঠিক মূল পাচ্ছে না। কৃষকরা কৃষি কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। একদিকে কৃষিকে ধ্বংস করেছে অন্যদিকে শিল্পকে ধ্বংস করেছে।'
তিনি বলেন, 'তথ্যমন্ত্রী প্রত্যেকদিন এমন কথা বলেন, আমরা নাকি গণতন্ত্র বুঝি না, আমরা উন্নয়ন দেখতে পাই না, আমাদের চোখে নাকি ধুলি পড়ে গেছে, এসব। জনগণ নিজেই দেখছে উন্নয়ন কার হয়েছে। উন্নয়ন হয়েছে আওয়ামী লীগ যারা করে তাদের। তাদের পকেট ভারী হয়েছে। আর সাধারণ মানুষের পকেট কেটে তাদের পকেট ভারী করেছে।'
তিনি বলেন, 'আজকে আওয়ামীলীগ প্রকৃতপক্ষে এ দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। একদিকে অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে দুর্নীতি করে। অন্যদিকে আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। একটা পার্লামেন্ট আছে। সেই পার্লামেন্টে নির্বাচন কীভাবে হয়েছে আপনারা সেটা ভালো জানেন। আগের রাতে ভোট দিয়েছে এবং তাদের ইচ্ছামতো লোকদের পার্লামেন্টে বসিয়ে দিয়েছে। সেখানে কোনো জবাবদিহিতা নাই। কাউকে জবাবদিহিতা করতে হয় না। আজকে বিচার, আইন, আদালত সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'কয়েকদিন আগে আমাদের ঢাকার ৭ নেতাকে জেল দিয়েছে। ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে তারা মামলা দিয়েছে। ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ ৬ শতাধিক নেতাকে গুম করেছে। আজকে তার মেয়ে-ছেলে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে। কখন তাদের বাবা ফিরে আসবে। বাবা কিন্তু ফিরে না। আজকে এরকম ৬ পরিবারের মা সন্তান হারিয়েছে, স্ত্রী তার স্বামী হারিয়েছে, পিতা তার পুত্রকে হারিয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে তারা হত্যা করেছে।'
মির্জা ফখরুল বলেন, 'কিছুক্ষণ আগে শুনলাম যারা এখানে আসছিল তাদের ওপর হামলা হয়েছে। এতই যদি জনগণের উপকার, কল্যাণ করে থাকেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন আর উন্নয়ন করে থাকেন তাহলে ভয় পান কেন। একটি রাজনৈতিক দল তার গণতান্ত্রিক অধিকার অনুযায়ী সম্মেলন করবে। সেটা ভাঙেন কেন আপনারা?'