‘সরকারের চরম দুর্নীতির প্রভাব বাজারে, জনগণকে তার মাসুল দিতে হচ্ছে’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'এই সরকারের আমলে কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। সরকারের চরম দুর্নীতির যে অ্যাফেক্ট, তার প্রভাব বাজারে গিয়ে পড়ছে এবং জনগণকে তার মাসুল দিতে হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
সংবাদ সম্মেলনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং উপজেলা পর্যায়ে ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত দ্রব্যসামগ্রী বিক্রির দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ১১ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কর্মসূচির মধ্যে আছে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে (মহানগর বিএনপি উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে), ২৮ ফেব্রুয়ারি জেলা পর্যায়ে এবং ২ মার্চ উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ।
৬ মার্চ ছাত্রদল, ৮ মার্চ যুবদল, ৯ মার্চ স্বেচ্ছাসেবক দল, ১০ মার্চ কৃষক দল, ১৪ মার্চ মহিলা দল ও ১৫ মার্চ তাঁতী দলের উদ্যোগে সমাবেশ।
এছাড়া ১২ মার্চ বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্য়ায়ে হাট-বাজারে হাটসভা-পথসভা ও লিফলেট বিতরণ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'প্রকৃতপক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য চাল-ডাল-তেলসহ পানি, বিদ্যুত ও গ্যাসের মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে করে দেশের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের প্রকৃত আয় অনেক কমে গেছে। অনেকে মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্তে চলে গেছে এবং কিছু মানুষ মধ্যবিত্তে চলে এসেছে। এটিই বাস্তবতা।'
'এজন্য আমরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ ও উপজেলা পর্যায়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির দাবিতে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব কর্মসূচিতে দলের সিনিয়র নেতারা অংশ নেবেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'আমরা মাঠ পর্যায়ে এসব কর্মসূচি নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দেশবাসীকে সম্পৃক্ত করতে যাচ্ছি। আমরা এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি তাদের প্রয়োজনে এসব কর্মসূচিতে যোগ দিন।'
তিনি বলেন, 'এই সরকারের কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাদের যেমন বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই, একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ নেই, উৎপাদনের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ নেই। দুর্নীতির কারণে এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে যে, প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০-২৮ শতাংশ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে।'
তিনি বলেন, বাজারের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটগুলো তৈরি করা হয়েছে তারা কৃত্রিমভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয় বলে জানান মির্জা ফখরুল।
অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার ছিলেন।