‘সরকারে যিনি যত বড় প্রভাবশালী, তিনি তত প্রতাপশালী দুর্নীতিবাজ’
বিনা ভোটের এই সরকারে যিনি যত বড় প্রভাবশালী তিনি তত প্রবল প্রতাপশালী দুর্নীতিবাজ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, দেশ এখন আওয়ামী দুঃশাসনের দুর্বৃত্তায়নের দখলে। কাগজে-কলমে অসংখ্য কোটিপতির কথা বলা হলেও দেশে বুভুক্ষ মানুষের দীর্ঘ লাইন। সন্তান বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করছে। শিক্ষিত তরুণরা শুধুমাত্র দুবেলা ভাত খেয়ে ছাত্র পড়াতে চাচ্ছে। অন্যদিকে গুটি কতক মানুষ দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষের রক্ত চুষে নিয়ে দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের ২ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ফোন আলাপ ফাঁস হয়েছে। এই হাইভোল্টেজ আলাপনই এখন 'টক অব দ্য ইউনিভার্স'। একজন হলেন সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অপরজন হলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। কথিত ডিজিটালাইজড করার নামে দেশে দুর্নীতির যে রমরমা বাণিজ্য চলছে এই ২ ব্যক্তির কথায় সেটি প্রমাণিত। ফোন আলাপে শুধু এই ২ ব্যক্তিই নয়, দুর্নীতিবাজ চক্রের সঙ্গে মোস্তফা জব্বার নামে বিনা ভোটের আরেক মন্ত্রীর নামও উঠে এসেছে। এই ৩ ব্যক্তিই কোনো নিয়ম-নীতি না মেনেই প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিতে একাট্টা হয়েছেন।
ফাঁস হওয়া ফোনালাপে শোনা যায়, সালমান এফ রহমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে একটি প্রজেক্ট পাস করে দেওয়ার কথা অনেকটা ধমকের সুরেই বলছেন, 'কোনো টেন্ডার লাগবে না, এটাতো জয়ের প্রজেক্ট'। যেহেতু জয়ের প্রজেক্ট, সেহেতু প্রজেক্ট যেভাবে এসেছে সেভাবেই প্রজেক্ট রিলিজ করে দেওয়ার কথাও আনিসুল হককে জানিয়ে দেন দরবেশ নামে পরিচিত সালমান এফ রহমান। আনিসুল হক জানিয়ে দিয়েছেন, জয় যেভাবে চেয়েছে তিনি সেভাবেই করে দিয়েছেন। এটির বাস্তবতা কী আমরা জানি না, তবে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের ফোনালাপ ফাঁসের খবরে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। দেশব্যাপী দুর্নীতির এটি খণ্ডচিত্র মাত্র, বলেন রিজভী।
সরকার নিজের ফাঁদে আটকে গেছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার বিতর্কিত আড়িপাতা যন্ত্র কিনে বছরের পর বছর ধরে বিরোধী দল কিংবা ভিন্নমতের মানুষের ব্যক্তিগত ফোন আলাপ রেকর্ড করে আসছে। এরপর নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে অবৈধভাবে রেকর্ড করা ফোন আলাপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে তার ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা মিডিয়া ট্রায়াল করে সরকার। এবার নিজেদের পাতা ফাঁদে নিজেরাই ধরা পড়েছে। আসলে রাষ্ট্র কে চালাচ্ছে, সেটি নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফাঁস হওয়া ফোন আলাপে, নিশিরাতের সরকারের ২ মন্ত্রী আর ২ উপদেষ্টার দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ গোটা দেশের জনগনের সামনে স্পষ্ট। উপদেষ্টা ও মন্ত্রীর ফোন আলাপ দুর্নীতির সামান্য নমুনা মাত্র। তারা সংঘবদ্ধভাবে দুর্নীতি ও লুটপাট করে দেশটাকে ফোকলা করে দিয়েছে। দেশের জনগণ ঝড়-ঝঞ্জার রাতে উত্তাল অকূল পাথার সমুদ্রে কোথাও কোন লাইট হাউসের দেখা পাচ্ছে না।
দেশে এখন চলছে দুর্নীতিবাজদের প্রলয় উল্লাস। এসব মাফিয়া এবং দুর্নীতিবাজরা বিনা ভোটে ক্ষমতায় থাকতে থাকতে গণতন্ত্রের কথা শুনলেই এদের এখন গায়ে জ্বালা ধরে। এর প্রমাণ হাছান মাহমুদ। আপনারা জানেন, বাংলাদেশের সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ক্যানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন' (সিএইচআরআইও) 'মাদার অব ডেমোক্রেসি' এবং 'ডেমোক্রেসি হিরো' অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করেছে। তবে দেশনেত্রীর জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে এমন সম্মানে হাছান মাহমুদরা চরম আত্মপীড়ন ও মনোকষ্টে ভুগছেন। এ কারণে হাসান মাহমুদ বলেছেন, এই অ্যাওয়ার্ড নাকি টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে। কিনে পদক পাওয়ার সংস্কৃতি তো আওয়ামী লীগ নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর। পদক কিনে বস্তা ভরার ইতিহাস তো আপনাদেরই। ক্ষমতাসীন হলেই আপনাদের কাছে বানের স্রোতের মতো পদক আসে—বলেন তিনি।