‘সামান্য স্বার্থের জন্য দলীয় নেতারা নৌকাকে হারাতে মরিয়া হয়ে ওঠে’

নিজস্ব সংবাদদাতা, পিরোজপুর

সামান্য স্বার্থের জন্য দলীয় লোকজন নৌকার পরাজয় নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ।

আজ শনিবার কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় ড. শাম্মী আহমেদ এ মন্তব্য করেন।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, 'আমরা সবাই আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের দুর্দিনের কথা ভুলে গেছি। বিএনপি- জামায়াতের চেয়ে আমরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে দলাদলিতে বেশি ব্যস্ত। কিন্তু নৌকাকে হারিয়ে আমরা আমাদের অস্তিত্বকে হারিয়ে ফেলছি এ নিয়ে আমরা কখনো ভাবি না।'

তিনি আরও বলেন, 'শেখ হাসিনার আমলে বিএনপি ও জামায়াতের লোকেরা বেশি সুখে আছে, কারণ আমারা প্রতিটা জায়গায় সামান্যতম স্বার্থের জন্য, আরাম আয়েশের জন্য দলাদলি করি।'

শেখ হাসিনা না থাকলে এ আরাম আয়েশ থাকবে না বলেও বলে মন্তব্য করেন ড. শাম্মী।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শাম্মী আরও বলেন, 'আওয়ামী লীগ যে অবস্থানে আছে তাতে এই দলকে হারানোর শক্তি কারও নাই।'

তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'নিজেদের স্বার্থের জন্য অনেকেই জামায়াত-বিএনপি'র সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেদের ছোট করছে।' তাই '১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগ যেভাবে সংগঠিত ছিল, পুণরায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সেভাবে সংগঠিত হওয়ার' আহবান জানান তিনি।

এদিকে বর্ধিত সভায় অংশ নেওয়া তৃণমূলের নেতারা অভিযোগ করেন, নিজেদের পছন্দের প্রার্থী না হওয়ায় নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিভিন্নভাবে সমর্থন দিয়েছেন জেলা ও উপজেলা কমিটির প্রভাবশালী নেতা এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এতে করে জেলার বিভিন্ন স্থানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার অভিযোগও করেন তারা। এমনকি অপছন্দের স্থানীয় নেতাদের বিভিন্নভাবে কোনঠাসা করে রাখার পাশাপাশি নিজস্ব দল গঠনেরও অভিযোগ করেছেন সভায় অংশ নেওয়া তৃণমূলের নেতারা।

বর্ধিত সভায় অংশ নেয়া তৃণমূলের নেতারা জানান, নেছারাবাদ উপজেলায় ২ যুগ আগে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। সেখানে ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। ফলে সেখানকার সাংগঠনিক কাঠামো পুরোপুরিভাবে ভেঙে পড়েছে। এমনকি ওই উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক কেউই বর্ধিত সভায় অংশ নেননি। অন্যদিকে মঠবাড়িয়া উপজেলায় দলীয় কোন্দল এতটাই প্রকট যে সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুইটি অফিস রয়েছে যার একটি সভাপতি এবং অন্যটি সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকেরা ব্যবহার করেন। এমনকি সেখানকার নেতারা একসঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানে অংশও নেননা। অন্যদিকে নাজিরপুর উপজেলা কমিটির মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। এছাড়া ইন্দুরকানী উপজেলায় সরকারের শরীক দল জাতীয় পার্টি (জেপি-মঞ্জু) এর সঙ্গে মিলে চলতে গিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ইন্দুরকানী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট এম মতিউর রহমান।

যে সকল নেতাকর্মী দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে গিয়ে নির্বাচন করেছে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। অল্প সময়ের মধ্যেই মেয়াদ উত্তীর্ণ উপজেলা কমিটি গঠনের পর আগামী জুনের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ শনিবার পিরোজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম এ আউয়াল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন এবং সদস্য আনিসুর রহমান ও মো. গোলাম কবির রব্বানী চিনু। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ হাকিম হাওলাদার।