সয়াবিন তেলের ব্যবসা করে বেশিরভাগই আ. লীগের ব্যবসায়ী: ফখরুল
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও অপদার্থতা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, মূল্য বৃদ্ধির পেছনে একটাই কারণ আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এবং তাদের নেতাদের দুর্নীতি। তারা দুর্নীতি করে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছে কেন? সয়াবিন তেলের যারা ব্যবসা করে তারা বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী। গ্যাসের দাম বাড়ছে, এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করে নিয়ে আসছে তাদের একমাত্র শিল্প উপদেষ্টা তার সঙ্গে জড়িত।
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আজ রোববার দুপুরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, আজ ওষুধের দাম বাড়ছে, স্বাস্থ্য খাত শেষ হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য খাতে কোটি কোটি হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হয় কোনো বিচার হয় না। শিক্ষামন্ত্রীর এলাকা চাঁদপুরে ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে সেখানকার ডিসি অভিযোগ করে ৩৬৫ কোটি টাকা মন্ত্রীর আত্মীয় স্বজন নিয়ে গেছে, কোনো বিচার হয় না। মূল্য বৃদ্ধির একটাই কারণ দুর্নীতি, সেই সঙ্গে তাদের অযোগ্যতা, অপদার্থতা। স্বৈরাচারীরা অনেক সময় ভালো দেশ চালায়, আইয়ুব সেভাবে চালিয়েছিল কিন্তু এই সরকার দেশও চালাতে পারে না। মানুষের খাবার দিতে পারে না, জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না, ছেলেদের চাকরি নেই। একটা অপরাধ আছে, বিএনপি করে। তা ছাড়াও চাকরি নেই। করোনার পরে শতকরা ২ ভাগ দারিদ্র্যতা বেড়ে গেছে। কর্মহীন অবস্থায় আছে প্রায় ৬ কোটি মানুষ। এগুলো তারা কখনো বলে না, সব সময় বলে এখানে উন্নয়ন হচ্ছে। মেগা প্রকল্প ১০ বছর ধরে চলছে।
তিনি বলেন, একটা গভীর চক্রান্ত আছে, এই দেশের মানুষকে অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত রেখে তারা একটা রাজতন্ত্র চালাবে। আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য, মুক্ত সমাজের জন্য। সেই মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আবার সব মানুষকে ১৯৭১ সালের মতো ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমাদের যুদ্ধ শুধুমাত্র বিএনপিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, আমাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য।
বাংলাদেশের মানুষের অন্তরের কথা, আমরা আর পারছি না। আমাদের পক্ষে আর জীবন-যাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশকে আওয়ামী লীগ সরকার এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছে, যেখানে বাংলাদেশে মানুষ এখন বেঁচে থাকার উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। অতিষ্ঠ হয়ে গেছে জীবন। বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম খাবার কিনতে পারছে না, নিরাপত্তা পাচ্ছে না, স্কুল-কলেজের বেতন বাড়ছেই। স্কুল-কলেজে এমন হেড মাস্টার-হেড মিস্ট্রেস নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে অথবা ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে যারা চোর। চুরি করে সারাক্ষণ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চুরির আখড়ায় পরিণত হয়েছে, বলেন ফখরুল।
দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম তারা একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রগঠন করতে চেয়েছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম সব মানুষ মোটা ভাত খেয়ে, মোটা কাপড় পরে বেঁচে থাকবে। আমরা চেয়েছিলাম এখানে মানুষ শান্তিতে বেঁচে থাকবে। নিরাপদে থাকতে পারবে। আওয়ামী লীগ সরকার যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবার তারা বাংলাদেশের মানুষের সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত একই কাজ করেছে। শেষ পর্যন্ত জনগণ যখন বিদ্রোহ করতে শুরু করেছে, ছাত্ররা বিদ্রোহ করতে শুরু করেছে, প্রায় ৩০ হাজার তরুণ-কিশোরকে হত্যা করেও তাদের সামাল দিতে পারেনি তখন তারা একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা বাকশাল গঠন করেছে। আজকেও একই ঘটনা চলছে। মোড়কটা আলাদা। গণতন্ত্রের মোড়ক লাগিয়েছে কিন্তু ভেতরে ভেতরে সমস্তটাই ওই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা তারা চালাচ্ছে, বলেন বিএনপি মহাসচিব।