গ্র্যামি বর্জনের ঘোষণা বিটিএসের
বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস ঘোষণা দিয়েছে, আগামী বছরের ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের জন্য তাদের কোনো গান জমা দেবে না। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে এই আয়োজনের।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বিটিএস জানায়, ‘আমরা এ বছর গ্র্যামিতে আমাদের কাজ জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অঞ্চল বা ভাষার সীমা ছাড়িয়ে সংগীত যেন তার নিজস্ব গুণে মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং ভালোবাসা পায় এটাই আমাদের আশা।’
বিবৃতিতে তারা আরও বলে, ‘আর্মি ও যারা সব সময় আমাদের সমর্থন করে আসছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’
বিটিএসের এই ঘোষণা অনেক ভক্ত ও পর্যবেক্ষকের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই গ্র্যামি জয়কে দলটির অন্যতম বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখা হতো। গত কয়েক বছরে ব্যান্ডটির সদস্যরা একাধিকবার বলেছেন, গ্র্যামি জয় করা তাদের ক্যারিয়ারের বড় স্বপ্নগুলোর একটি।
গত বছরের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে নেটফ্লিক্সের অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘কেপপ ডেমন হান্টার্স’-এর থিম সং ‘গোল্ডেন’ সেরা ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার জন্য লেখা গানের বিভাগে পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়ে। এটি ছিল গ্র্যামিতে পুরস্কারজয়ী প্রথম কে-পপ সংশ্লিষ্ট গান।
এদিকে বিটিএসের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন সময়ে, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে রেকর্ডিং একাডেমি ২০২৭ সালের গ্র্যামির জন্য পাঁচটি নতুন বিভাগ ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে ‘এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ নামে নতুন একটি বিভাগ। রেকর্ডিং একাডেমির ভাষ্য অনুযায়ী জুন মাসে ঘোষিত এই বিভাগটির উদ্দেশ্য, এশীয় পপ সংগীতের শিল্পগত উৎকর্ষকে স্বীকৃতি দেওয়া।
তবে নতুন বিভাগটি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীত অঙ্গনে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশের প্রশ্ন, মূলধারার বিভাগে সমানভাবে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার বদলে এশীয় পপকে আলাদা করে দেখাতেই কি এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
কিছু সমালোচকের মতে, অতীতেও উদীয়মান ধারা ও আঞ্চলিক সংগীতের জনপ্রিয়তা বাড়ার পর রেকর্ডিং একাডেমি লাতিন ও আরঅ্যান্ডবি সংগীতের জন্য আলাদা বিভাগ চালু করেছিল।
অন্যদিকে অনেকের মতে, বিশ্বজুড়ে এশীয় পপ সংগীতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিবেচনায় এই স্বীকৃতি অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল।