শৈশবে ঈদের সালামি অনেক আনন্দের ছিল: রফিকুল আলম

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

বাংলাদেশের প্রথম সারির সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে গান করছেন তিনি। দেশে-বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছেন সুগায়কী দিয়ে। এদেশের গানকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। এখনো গানে গানে সরব আছেন। 

গুণী এই শিল্পী দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন ছোটবেলার ঈদ নিয়ে।

রফিকুল আলম বলেন, ‘ছোটবেলা কেটেছে রাজশাহীতে। ওখানেই আমার বাড়ি। রাজশাহী শহরে সাগরপাড়া নামে বিখ্যাত একটি জায়গা আছে। পাঁচটি পরিবার ছিল আমাদের ছোটবেলায়। সবগুলো আমাদের নিজেদেরই বাড়ি।’

‘আমরা চার ভাই, দুই বোন। চাচাতো ভাই এবং আমরা মিলে ২১ জন সদস্য ছিলাম সেই সময়ে। ঈদের সময়ে নিজেরাই বিশাল দল হয়ে যেতাম। আনন্দ আর হইচই করার জন্য বাইরের কাউকে দরকার হতো না। আমরাই আনন্দ করতাম’, বলেন তিনি। 

ঈদের দিনে কী করতেন ছোটবেলায়, এ প্রশ্নের জবাবে রফিকুল আলম বলেন, ‘ঈদের দিন ঘুড়ি উড়াতাম। দল বেঁধে এটাই ছিল আসল কাজ। আমার এক চাচাতো ভাই ঘুড়ি বানাতে পারতেন। ঈদের আগে থেকে ঘুড়ি বানিয়ে রাখতাম। এরপর ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার পর ছুটতাম ঘুড়ি নিয়ে।’

ছোটবেলার ঈদে নতুন জামার বিষয়ে রফিকুল আলম বলেন, ‘নতুন জামার বিষয়টি তো ছিলই। আমি নিজে পছন্দ করতাম না। আব্বা দর্জির দোকানে নিয়ে যেতেন। আব্বা পছন্দ করতেন। এভাবেই ঈদের নতুন জামা বানানো হতো। ওই স্মৃতিগুলো আসলেই ভুলতে পারব না।’

রফিকুল আলম। ছবি: স্টার
রফিকুল আলম

 

ঈদের সালামির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারে ঈদের সালামির বিষয়টি ছিল না, কিন্তু মামাবাড়িতে ছিল। তখন ঈদের সালামি অনেক আনন্দের ছিল। আর এখন তো সালামি দিতে হয়। না চাইলেও দিতে হয়।’

ছোটবেলার ঈদের স্মৃতিতে ফিরে গেলে কষ্ট পান রফিকুল আলম। 

তিনি বলেন, ‘আমি স্মৃতিকাতর হতে চাই না। খারাপ লাগে। কষ্ট পাই। এজন্য পেছনে ফেলে আসা ছোটবেলার স্মৃতিগুলো মনে করতে চাই না।’

এবারের ঈদে তিনি ঢাকায় থাকবেন। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকায় থাকব। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করব।

অন্যদিকে, এবারের ঈদে তার একটি নতুন গান আসছে। 

ফুয়াদ নাসের বাবু গানের সুর করেছেন। গানের কথা লিখেছেন মনিরুজ্জামান মনির। 

গানটি একটি ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাবে এবং বেসরকারি কোনো একটি টিভি চ্যানেলেও প্রচার হবে।
রফিকুল আলম বলেন, ‘খুব ভালো একটি গান হয়েছে।’