যুক্তরাষ্ট্রে কেমন আছেন নওশীন

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন নওশীন নাহরীন মৌ। তবে শোবিজ থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাননি। সেখানে নিয়মিত উপস্থাপনর পাশাপাশি সামলাচ্ছেন চাকরি, পরিবার ও ব্যবসা।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের জীবন, শোবিজ, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

অভিনয় কিংবা শুটিংয়ের ব্যস্ততা কতটা মিস করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে নওশীন বলেন, ‘অবশ্যই মিস করি। লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন—সবই মিস করি। তবে সবচেয়ে বেশি মিস করি উপস্থাপনা। উপস্থাপনার মাধ্যমে মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটা সত্যিই অসাধারণ। অভিনয় করেও দর্শকের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। দূরে থাকলেও সেই দিনগুলো খুব মনে পড়ে।’

২০১৯ সালে শেষবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান নওশীন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রেই কেটে যাচ্ছে তার ব্যস্ত সময়। সংসার, চাকরি, পারিবারিক ব্যবসা—সব মিলিয়ে এখন ভিন্ন এক জীবনে অভ্যস্ত তিনি।

Nawsheen
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

সম্প্রতি অল্প কয়েক দিনের জন্য দেশে এসেছিলেন নওশীন। সময়টা কেটেছে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে।

তিনি জানান, অভিনেত্রী দীপা খন্দকার ও ফারজানা চুমকির বাসায় নিমন্ত্রণে গিয়েছিলেন। আরও অনেক সহশিল্পীর আমন্ত্রণ থাকলেও সময়ের স্বল্পতায় যেতে পারেননি। এদিকে সংগীতশিল্পী কোনাল ও অভিনেত্রী স্পর্শিয়াও তার বাসায় গিয়ে দেখা করেছেন।

নওশীন বলেন, ‘ঢাকায় এলেই অন্যরকম ভালো লাগে। নিজের দেশ বলে কথা। এই অনুভূতির কোনো তুলনা হয় না।’
দেশে এসে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছেন মৌসুমি ফল ও দেশি খাবার।

‘এবার প্রচুর আম খেয়েছি, কাঁঠাল খেয়েছি। মেয়েকে লিচু খাওয়ানোর ইচ্ছা ছিল, সেটাও পূরণ হয়েছে। আর মাছ তো আমার খুবই প্রিয়। টাটকা মাছ খেয়ে দারুণ লেগেছে।’

Nawsheen
হিল্লোলের সঙ্গে নওশীন। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

দেশে না থাকলেও উপস্থাপনা ছাড়েননি নওশীন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছরই কয়েকটি বড় অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করি। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল উপস্থাপনা করব। এই কাজটা আমি খুব উপভোগ করি।’

যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও দেশের শিল্পীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান নওশীন।

‘এখানে যারা থাকেন, তাদের সঙ্গে প্রায়ই দেখা হয়। রোমানা আপু নিয়মিত খোঁজ নেন। শুধু শোবিজ নয়, অনেক পরিবারের সঙ্গেও আমাদের আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে।’

Nawsheen
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

অভিনেতা হিল্লোলকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ‘মুভার্স বিডি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন নওশীন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা আমেরিকায় আসতে চান, তাদের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করি। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।

এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ‘এনক্যাফে ৩৬৫’ নামে একটি রেস্টুরেন্টও পরিচালনা করছেন তিনি। এতে অংশীদার আছেন তার স্বামী হিল্লোল, অভিনেত্রী নোভা ও নওশীনের মামা।

নওশীন বলেন, ‘আমার মা-বাবা ও মামা অনেক বছর ধরেই আমেরিকায় আছেন। এটি আমাদের পারিবারিক ব্যবসা। এখানে অনেক বাংলাদেশি আসেন, সবার সঙ্গে দেখা হয়—ভালো লাগে।’

Nawsheen
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান।

সেই প্রসঙ্গ তুলে নওশীন বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে খেলা দেখেছি। খুব সুন্দর সময় কেটেছে।’

শাকিব খানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এখন পারিবারিক বলেই জানান তিনি।

‘শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে শুধু আমার নয়, আমার মা-বাবা ও মামারও দারুণ সম্পর্ক। আমাদের রেস্টুরেন্টে এলে আমার ছেলেকে খুব আদর করেন। তিনি সুপারস্টার হলেও মানুষ হিসেবে ভীষণ আন্তরিক। আমাদের বাসায়ও আসেন। মায়ের হাতের রান্না খুব পছন্দ করেন। বাবার সঙ্গেও নিয়মিত ফোনে কথা বলেন। এখন সম্পর্কটা একেবারেই পারিবারিক।’

Nawsheen
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের জীবনকে ব্যস্ত বলেই বর্ণনা করলেন নওশীন।

‘এখানে সপ্তাহের বেশিরভাগ সময়ই কাজের মধ্যে থাকতে হয়। ছুটির দিনগুলো পরিবারকে দিই। আমার মেয়ে এখনো ছোট, ওকে সময় দিতে হয়। পাশাপাশি চাকরি ও ব্যবসা সামলাতে হয়। সব মিলিয়ে খুব ব্যস্ত সময় কাটে।’

তবে এত ব্যস্ততার মাঝেও একটি বিষয় সবসময় অনুভব করেন তিনি—দেশের জন্য টান।

Nawsheen
পরিবারের সঙ্গে নওশীন। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

শেষ প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশকে কতটা মিস করেন?

একটি শব্দেই উত্তর দিলেন নওশীন, ‘অনেক।’