ভারতে আলোচিত জয়ার সিনেমা
পর্দায় জয়া আহসানের উপস্থিতি মানেই যেন নতুন চমক। তিনি কেবল একটি চরিত্রে অভিনয় করেন না, চরিত্রটিকে নিজের ভেতরে ধারণ করে দর্শকের সামনে তুলে ধরেন। তাই তার প্রতিটি নতুন সিনেমা ঘিরেই তৈরি হয় আলাদা প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশারই আরেকটি সফল অধ্যায় ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’।
গত ১০ জুলাই ভারতে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি এখনো প্রেক্ষাগৃহে চলছে। মুক্তির কয়েক সপ্তাহ পরও বিভিন্ন হলে হাউজফুল শো প্রমাণ করে, দর্শকের আগ্রহ একটুও কমেনি। দর্শকের পাশাপাশি সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পাচ্ছে সিনেমাটি। বিশেষ করে জয়া আহসানের অভিনীত চরিত্রটি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সম্পর্কের গল্প, জীবনের গল্প
‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ মূলত ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া আলোচিত সিনেমা ‘অর্ধাঙ্গিনী’–এর পরবর্তী অধ্যায়। প্রথম সিনেমাটি সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন, ভালোবাসা, অভিমান, বিচ্ছেদ ও ক্ষমার গল্প বলে দর্শকের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। শুধু একটি পারিবারিক গল্প নয়, এটি ছিল মানুষের ভেতরের অনুভূতির গল্প।
সেই গল্পেরই ধারাবাহিকতায় নির্মিত হয়েছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। এবারও গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন সুমন। তার জীবনকে ঘিরে আবারও মুখোমুখি হন সাবেক স্ত্রী শুভ্রা এবং বর্তমান স্ত্রী মেঘনা। অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের বাস্তবতা এবং সম্পর্কের নতুন সমীকরণ মিলিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনী।
এই আবেগঘন গল্পকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন অভিনেতা কৌশিক সেন, চূর্ণী গাঙ্গুলী ও জয়া আহসান। নতুন অধ্যায়ে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অভিনেতা ইন্দ্রাশিস রায়।
মেঘনা হয়ে আবারও মুগ্ধ জয়া
জয়া আহসানের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, তিনি প্রতিটি চরিত্রকে আলাদা ব্যক্তিত্ব দিতে পারেন। আজও অর্ধাঙ্গিনীতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মেঘনা চরিত্রে তার সংযত অভিনয়, চোখের ভাষা এবং আবেগ প্রকাশের সূক্ষ্মতা দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
নিজেও এই সিনেমা নিয়ে উচ্ছ্বসিত জয়া। তার ভাষায়, ‘অর্ধাঙ্গিনী ছিল অত্যন্ত পরিণত ও সংবেদনশীল একটি গল্প। সেই গল্পের পরবর্তী অংশে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য আনন্দের। কৌশিকদা এবং চূর্ণীদি না থাকলে পর্দায় মেঘনা চরিত্রটিকে জীবন্ত করা হয়তো সম্ভব হতো না। তাদের দিকনির্দেশনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
কেন এত আলোচনায়
বর্তমান সময়ে সম্পর্কভিত্তিক সিনেমার প্রতি দর্শকের আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। কারণ, এমন গল্পে মানুষ নিজের জীবনকে খুঁজে পায়। ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, ভুল বোঝাবুঝি, ক্ষমা কিংবা নতুন করে শুরু করার সাহস—এসব অনুভূতি সবার জীবনেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে থাকে।
আজও অর্ধাঙ্গিনী সেই পরিচিত অনুভূতিগুলোকেই পর্দায় তুলে এনেছে আন্তরিকতা ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে। তাই সিনেমাটি কেবল বিনোদন দেয় না, দর্শককে ভাবায়ও।
দুই বাংলার প্রিয় মুখ
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ—দুই বাংলাতেই জয়া আহসানের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। ভিন্নধর্মী গল্প বেছে নেওয়া এবং চরিত্রের প্রতি তার নিষ্ঠাই তাকে সমসাময়িক সময়ের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রীতে পরিণত করেছে।
আজও অর্ধাঙ্গিনী সেই সাফল্যের তালিকায় নতুন সংযোজন। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছে, সমালোচকদের কাছ থেকেও পেয়েছে ইতিবাচক মূল্যায়ন।
প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড় বলছে, সম্পর্কের গল্প যদি হৃদয় ছুঁয়ে যেতে পারে, তবে তার আবেদন কখনো ফুরিয়ে যায় না। আর সেই গল্পের কেন্দ্রে যদি থাকেন জয়া আহসানের মতো একজন শক্তিশালী অভিনেত্রী, তাহলে সেই সিনেমা আলোচনায় থাকাটাই যেন স্বাভাবিক।