কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি প্রায় ২ লাখ, মৃত বেড়ে ২৮

মোকাম্মেল শুভ
মোকাম্মেল শুভ

শনিবার সারারাত ও আজ রোববার সারাদিন বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

এতে জেলার ৩ উপজেলায় প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, নতুন করে জেলায় পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সাম্প্রতিক দুর্যোগে জেলায় মোট ২৮ জন মারা গেছে বলে দুর্যোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বৃষ্টি কম হওয়ায় বন্যার পানি মানতে শুরু করেছিল। কিন্তু শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টির কারণে পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে।

চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। অনেক এলাকায় ৭-৮ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে মানুষ।

চকরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন দেলোয়ার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এখনো উপজেলার ১ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি। অনেকেই এখনো ত্রাণ পাননি।'

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ৪ হাজার প্যাকেট ও বাইরে থেকে আরও ১ হাজারসহ মোট ৫ হাজার প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পেকুয়ার ইউএনও রফিকুল ইসলাম বলেন, 'বর্তমানে উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নই ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য ১ হাজার প্যাকেট করে ত্রাণের ব্যবস্থা করছি।'

মাতামুহুরী উপজেলার বড় একটি অংশে এখনো বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।  বদরখালী ইউনিয়নের মাঝের পাড়ার বাসিন্দা নুরুল আফসার ডেইলি স্টারকে বলেন, পুরো এলাকা তীব্র মানবিক সংকটে পড়েছে। দ্রুত ত্রাণ না পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

এদিকে, টানা বর্ষণে পাহাড়ধস ও বন্যায় জেলায় আরও এক নারী ও দুই শিশু মারা গেছে। গতকাল শনিবার রাতে কক্সবাজার সদর, চকরিয়া ও পেকুয়ায় তারা মারা যায়।

এ নিয়ে সাম্প্রতিক দুর্যগে জেলায় পাহাড়ধস ও বন্যায় মোট ২৮ জন মারা গেছে।

কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি। ছবি: সংগৃহীত

সদর উপজেলায় শনিবার রাত ৯টার দিকে ঘরে পাহাড়ের একাংশ ধসে এক নারী নিহত হন।

নিহত রোজিনা আক্তার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি রান্নাঘরে ছিলেন বলে জানা গেছে।

হঠাৎ বাড়ির পেছনের পাহাড় ধসে পুরো রান্নাঘর চাপা পড়ে। বিকট শব্দ শুনে পরিবারের সদস্য, অতিথি এবং প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়।

পরে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় ২ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে রোজিনার মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, 'দীর্ঘসময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় উদ্ধারকারীরা পৌঁছানোর আগেই ওই নারী মারা যান।'

এদিক, শনিবার রাত ৯টার দিকে পেকুয়া উপজেলার বালির পাড়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ২ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানায়, শিশুটি বাবা-মাকে না জানিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির সামনে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের সদস্যরা তাকে পানির মধ্যে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।

অন্যদিকে, চকরিয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ রোববার বিকেলে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোজাখালী জলদাস পাড়া থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন দেলোয়ার ডেইলি স্টারকে জানান, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল সজীব জলদাস। তখন থেকেই তাকে উদ্ধারে অভিযান চলছিল।

আজ সকালে ফায়ার সার্ভিস ও স্বজনদের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি ডুবুরি দলও অভিযানে যোগ দেয়।

ইউএনও জানান, বিকেল ৩টার দিকে নিখোঁজের কাছাকাছি জায়গা থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।