রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি লোডিং পেছাচ্ছে

আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু
আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি লোড করার কাজ পেছাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর আগে ৭ এপ্রিল জ্বালানি লোডিংয়ের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছিল।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা ৭ এপ্রিল ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরুর প্রস্তুতি নিলেও সময়মতো কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। তাই পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।’

নতুন কোনো তারিখ হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সচিব জানান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) এখনো প্রয়োজনীয় নথিগুলো পর্যালোচনা করছে, তাই এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

সচিব আরও যোগ করেন, ‘জ্বালানি লোডিং সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্রের ওপর নির্ভর করে। লাইসেন্স ইস্যু করা হলে নতুন সময়সূচি ঠিক করা হবে।’

এর আগে প্রকল্পটি তদারককারী রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে সম্ভাব্য সময়সূচি জানানোর পর মন্ত্রণালয় ৭ এপ্রিলের তারিখ জ্বালানি লোডিংয়ের তারিখ নির্ধারণ করেছিল বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

ওই সূচি অনুযায়ী, এ বছরের জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা ছিল এবং ডিসেম্বরের মধ্যে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জ্বালানি লোডিংয়ে এই বিলম্বের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সীমাও স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে যাবে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়ায় প্রায় এক মাস সময় লাগে, যার প্রায় দুই মাস পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়। জ্বালানি লোডিং শুরুর পর থেকে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে অন্তত ১০ থেকে ১১ মাস সময় লাগে।

তবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) কর্মকর্তাদের দাবি, ৭ এপ্রিলের সময়সীমা মিস হলেও তারা এই মাসের শেষ নাগাদ জ্বালানি লোডিং শুরু করতে পারবেন বলে আশা করছেন। এরইমধ্যে নির্মাণকাজ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফোকাল পয়েন্ট অফিসার (মিডিয়া) সৈকত আহমেদ বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের সব নির্মাণকাজ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গত মাসেই পুরো প্রক্রিয়াটি মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরমাণু শক্তি কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাই অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে, যা পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সময় সমাধান করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান; নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে শতভাগ সন্তুষ্ট হলেই কেবল তারা কমিশনিং লাইসেন্স অনুমোদন দেবে।

লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

বর্তমানে রূপপুর সাইটে পর্যালোচনার কাজে ব্যস্ত আছেন বলে জানান তিনি।

বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিট কমিশনিংয়ের শেষ পর্যায়ে আছে এবং ২ নম্বর ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বাজেটের এই প্রকল্পের ৮১ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়। তবে ১ নম্বর ইউনিটের কমিশনিং এখনও শুরু না থাকায় বর্ধিত এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রের কাজ শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।