রূপপুরে জ্বালানি লোডিং: আইএইএর সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন চুক্তি সই

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে নতুন এক চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। 

গত ১৮ মার্চ অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএ’র সদর দপ্তরে পঞ্চম 'কান্ট্রি প্রোগ্রাম ফ্রেমওয়ার্ক' (সিপিএফ) শীর্ষক এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি সই হয়।

গতকাল শুক্রবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. তানভীর মিয়া।

বাংলাদেশের পক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং আইএইএ’র পক্ষে সংস্থাটির উপ-মহাপরিচালক ও টেকনিক্যাল কো-অপারেশন বিভাগের প্রধান হুয়া লিউ এই চুক্তিতে সই করেন। 

২০২৬ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত মেয়াদী এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

সিপিএফ মূলত আইএইএ ও এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার একটি মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা। আগামী ছয় বছরের জন্য পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাতটি অগ্রাধিকার ভিত্তিক খাত চিহ্নিত করেছে।

খাতগুলো হলো— পরমাণু ও বিকিরণ সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা, জ্বালানি, খাদ্য ও কৃষি, জনস্বাস্থ্য, পানি ও পরিবেশ, পরমাণু বিষয়ক জ্ঞান উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা এবং শিল্পক্ষেত্রে বিকিরণ প্রযুক্তির ব্যবহার।

তানভীর মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, নতুন স্বাক্ষরিত এই সিপিএফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো। এই ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।

বাংলাদেশ ১৯৭২ সাল থেকে আইএইএ’র সদস্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সহযোগিতার এই নতুন পর্যায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের (আরএনপিপি) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও কারিগরি মান নিশ্চিত করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।