ফাঁদ থেকে উদ্ধার সেই বাঘিনীর স্বাস্থ্য নিয়ে যা বললেন চিকিৎসকরা

By নিজস্ব সংবাদদাতা, খুলনা

সুন্দরবনে শিকারিদের পাতা তারের ফাঁদ থেকে উদ্ধার বাঘিনীটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আজ বুধবার বিকেলে বাঘিনীটির শারীরিক অবস্থার সবশেষ তথ্য জানাতে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বন বিভাগ। এতে উপস্থিত ছিলেন বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসক দলের সদস্যরা।

গত ৪ জানুয়ারি সুন্দরবন থেকে উদ্ধারের পর খুলনায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা চলছে বাঘিনীটির। এ জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নুর আলী খানের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে খুলনায় আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার সেন্ট্রাল ভেটেরিনারি হাসপাতালের অতিরিক্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. নাজমুল হুদা বলেন, 'বাঘিনীটির সামনের বাম পায়ের ত্বক, পেশি ও শিরার স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঘাত হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সে পা মাটিতে রাখতে পারছে, যা আশাব্যঞ্জক।'

তিনি আরও বলেন, 'রয়েল বেঙ্গল টাইগার সাধারণত একা একাই শিকার করে। তাই পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাঘিনীটিকে বনে ছাড়া যাবে না।'

বর্তমানে তিনটি দিক থেকে বাঘিনীটিকে 'আনফিট' হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—সামনের বাম পায়ে ব্যথা ও প্রদাহ, শরীরের পানিশূন্যতা এবং মাংসপেশির দুর্বলতা। শিকারের সময় যদি সে দুই পা ঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারে, তাহলে বনে তার জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের চিকিৎসা কোর্স নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে দ্বিতীয় ধাপেও চিকিৎসা শুরু করা হবে।

ডা. নাজমুল হুদা বলেন, 'রয়েল বেঙ্গল টাইগার স্বাভাবিকভাবেই কম পানি পান করে। তবে বর্তমানে বাঘিনীটির শরীরে পানিশূন্যতা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বনে থাকার সময়ই সে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এই তিনটি ক্ষেত্রে সন্তোষজনক উন্নতি না হলে তাকে ফিট ঘোষণা করা যাবে না। ফলে ২১ বা ২৮ দিনের মধ্যে তাকে বনে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।'

অধ্যাপক ড. নুর বলেন, 'বাঘিনীটির বয়স আনুমানিক চার বছরের কিছু বেশি। রোববার সে কোনো খাবার না খেলেও সোমবার প্রায় এক কেজি এবং মঙ্গলবার প্রায় দুই কেজি মাংস খেয়েছে। বুধবারও সে খাবার খাচ্ছে। বাঘিনীটির হুংকার দেওয়া আক্রমণাত্মক আচরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনো তাকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না, তবে তার অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে।'

সংবাদ সম্মেলনে বন বিভাগ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা খুলনা অঞ্চলে বন্যপ্রাণীর চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

এ ঘটনায় অবৈধভাবে ফাঁদ পাতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। উদ্ধার কাজে বাধা সৃষ্টি এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। পাশাপাশি সুন্দরবনে অবৈধ ফাঁদ পাতা ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।