সূর্যমুখীর হাসি, তেবুনিয়া কৃষি খামার যেন পর্যটনকেন্দ্র

আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু
আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু

পাবনার তেবুনিয়ায় ৬ দশমিক ৫৭ একর জমিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) পরিচালনায় সূর্যমুখী ফুলের খামার রয়েছে। মাঘ মাসের ঘন কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর বিস্তীর্ণ এ খামার জুড়ে ফুটেছে সূর্যমুখী ফুল। 

হলুদে মোড়া এই মনোরম দৃশ্য জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের আকষর্ণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতারা ভিড় জমাচ্ছেন এ খামারে। 

ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশ্যে স্থাপিত বিএডিসির তেবুনিয়া খামারের অফিস সহকারী মো. ওমর শরিফ জানান, খামারের মূল লক্ষ্য এখনও বীজ উৎপাদন।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘দেশে বীজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এ বছর ৬ দশমিক ৫৭ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। আমাদের লক্ষ্য ২ হাজার ৩০০ কেজি সূর্যমুখীর বীজ উৎপাদন।’

দর্শনার্থীর ভিড় প্রকৃতিপ্রেমের প্রতিফলন হলেও এটি খামার কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। খামারের আগের ‘নীরব’ পরিবেশ এখন জনসমাগমে ভরে গেছে, যা দুটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খামার কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মানুষের অবিরাম উপস্থিতি মৌমাছিকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক পরাগায়ন না হলে ফুল থেকে সঠিকভাবে বীজ তৈরি হয় না।

শরিফ বলেন, ‘পরাগায়ন ব্যাহত হলে অনেক ফুল বন্ধ্যা হয়ে যাবে।’

প্রহরী থাকা সত্ত্বেও অনেক দর্শনার্থী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাঠে প্রবেশ করছেন, ছবি তুলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ফসলের ক্ষতি করছেন।

তবে দর্শনার্থীদের দাবি, জেলার মধ্যে এভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার মতো আর কোনো সুন্দর স্থান নেই।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক জেসমিন আরা শিল্পী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শহরের কাছাকাছি এ খামার প্রকৃতির এক অনন্য ছোঁয়া দিয়েছে। এখানে এসে আমরা আনন্দিত।’

ভজেন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ রানা জানান, তিনি শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখাতে নিয়মিত খামারে নিয়ে আসেন।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ বছর খামার কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ফুলের ক্ষতি রোধে মো. মাসিম মিয়ার মতো প্রহরীদের মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা ফুলের ওপর দিয়ে হাঁটাচলা না করেন।

বিএডিসির কর্মীরা উদ্বিগ্ন, জনসমাগমের এ ধারা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে পারে।