রাঙ্গামাটিতে মৃত হাতিটির শুঁড়-মাংস কেটে নিয়েছে দুবৃর্ত্তরা
রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায় মারা যাওয়া ৬০ বছর বয়সী হাতিটির পায়ের মাংস ও শুঁড় কেটে নিয়ে গেছে দুবৃর্ত্তরা।
আজ সোমবার সকালে স্থানীয়দের নজরে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
এ ঘটনায় বন বিভাগের উদাসীনতা ছিল বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণী গবেষকরা।
অবশ্য বন বিভাগ বলছে, রাতের ঝড়-বৃষ্টি ও এলাকাটি জঙ্গলের ভেতরে হওয়ায় তাদের পক্ষে পাহারা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভাসান্যাদম এলাকার এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য জয়নাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কাল রাতে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে রাত ২-৩টার দিকে কেউ এসে হাতিটির মাংস কেটে নিয়ে গেছে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ্ বলেন, ‘মৃত পুরুষ হাতির মরদেহের কাছ থেকে তার সঙ্গীটি সরে যাওয়ার কারণে রাতে অন্ধকারে কেউ বা কারা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।’
হাতিটির পাহারায় বন বিভাগের লোকজন ছিল কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জঙ্গলের ভেতরে হওয়ায় সেখানে রাতে কেউ ছিল না। আমাদের লোকজন ভেটেরিনারি সার্জনসহ যাচ্ছেন, পোস্টমর্টেম করার পর আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করব। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এটা অকল্পনীয় একটা ঘটনা। এটা হতে পারে না। হাতির মরদেহটি বন বিভাগের নিয়মিত পাহারা দেওয়া উচিত ছিল। এটা স্থানীয় বন কর্মীদের অবহেলা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। এর ফলে মানুষের কাছে একটা বার্তা যাবে, হাতির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো খুব দামি ও চাইলেই এগুলো নেওয়া যায়।’
‘সাধারণত মৃত হাতির পাশে তাদের সঙ্গী হাতিগুলো থাকে, তারা শোক প্রকাশ করে। গতকালও সেই মৃত হাতির পাশে একটি সঙ্গী হাতি ছিল। কিন্তু আমি কয়েকটি ভিডিওতে দেখলাম সেই সঙ্গী হাতিটিকে যেভাবে স্থানীয় লোকজন তাড়া করছিল, এটা খুব অগ্রহণযোগ্য। এ বিষয়ে বন বিভাগের দেখভাল করার কথা ছিল। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না,’ বলেন জাবির এ অধ্যাপক।
বন বিভাগ জানায়, গতকাল মারা যাওয়া ওই হাতির শরীরে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ক্ষতচিহ্ন ও সেটি দুর্বল ছিল। বেশ কয়েক দফায় হাতিকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছিল।
মৃত হাতিটির পাশে তার সঙ্গী দাঁড়িয়ে থাকায় রোববার মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিল বন বিভাগ।
