এক জীবনে চোখের পলক ফেলতেই চলে যায় সাড়ে ৩ বছর!
জীবনে আমরা কোথায় কত সময় ব্যয় করি, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমে আসবে চাকরি, ঘুম, খাওয়া কিংবা যাতায়াতের কথা।
তবে জীবনে এমন কিছু কাজও আছে, যেগুলোকে আমরা কাজ হিসেবেই ধরি না। চোখের পলক ফেলা, হাই তোলা কিংবা শরীরের কোথাও চুলকানো—এসব তো আমাদের অজান্তেই হয়ে যায়। কিন্তু এই ছোট ছোট কাজগুলোতেই সারা জীবনে কতটা সময় চলে যায়, তার হিসাব করলে সত্যিই অবাক হতে হয়।
চোখের পলকে কেটে যায় সাড়ে তিন বছর!
চোখের পলক ফেলতে এক সেকেন্ডও লাগে না। অথচ জীবনে এই কাজেই চলে যেতে পারে প্রায় সাড়ে তিন বছর!
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) গবেষণা-তথ্যভান্ডার পাবমেডের হিসাবে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মিনিটে গড়ে প্রায় ১২ বার চোখের পলক ফেলেন। প্রতিটি পলক স্থায়ী হয় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সেকেন্ড।
ধরা যাক, কেউ দিনে ১৬ ঘণ্টা জেগে থাকেন। তাহলে তিনি দিনে প্রায় ১১ হাজার ৫২০ বার চোখের পলক ফেলছেন। সবগুলো পলক একসঙ্গে যোগ করলে দিনে এক ঘণ্টারও বেশি সময় চলে যায়!
যদি তার জীবনকালকে ৮০ বছর ধরা হয়, তাহলে এই সময় দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে তিন বছর। অর্থাৎ, জীবনের একটা বড় অংশ চোখ খুলতে ও বন্ধ করতেই কেটে যাচ্ছে।
পাবমেড বলছে, বাস্তবে চোখের পলকের হার সব সময় একই থাকে না। পড়ার সময় বা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে পলক ফেলার হার কমে যেতে পারে।
হাই তুলতে দুই সপ্তাহ!
এবার আসা যাক হাই তোলার কথায়।
আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্প্রিংগারের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে গড়ে প্রায় নয়বার হাই তোলেন।
গবেষণায় এমনও দেখা গেছে, গর্ভের শিশুরাও হাই তোলে। একটি পর্যালোচনায় ১২ সপ্তাহের ভ্রূণের ক্ষেত্রে দিনে প্রায় ২৫ বার হাই তোলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জীবনের সব হাই একসঙ্গে যোগ করলে এতে কেটে যেতে পারে অন্তত দুই সপ্তাহ।
আর একটা মজার ব্যাপার হলো, হাই সংক্রামকও হতে পারে। কাউকে হাই তুলতে দেখলে আরেকজনের হাই আসতে পারে। এমনকি কেবল হাই তোলার কথা পড়েও কারও হাই আসতে পারে!
মোজা পরতেও এক সপ্তাহ!
বিবিসি সায়েন্স ফোকাসের প্রতিবেদেন অনুযায়ী, মোজা পরতে হয়তো ২০ সেকেন্ডের মতো সময় লাগে, খুব একটা বড় ব্যাপার নয়। কিন্তু প্রতিদিন একই কাজ করতে থাকলে সময়ের হিসাবটা বদলে যায়।
প্রতিদিন মোজা পরলে সারা জীবনে এই কাজে প্রায় এক সপ্তাহ চলে যেতে পারে।
ভাবা যায়, জীবনের সাতটা দিন শুধু মোজা পরতেই গেল!
চুলকাতে দুই মাস
বিবিসি সায়েন্স ফোকাস বলছে, শরীর চুলকানোও কিন্তু কম সময় নেয় না। কোনো বিশেষ অ্যালার্জি না থাকলেও একজন মানুষ দিনে গড়ে প্রায় ৯৭ বার চুলকাতে পারে।
প্রতিবার কয়েক সেকেন্ড ধরে শরীর চুলকালেই সব মিলিয়ে জীবনে প্রায় দুই মাস চলে যেতে পারে এই কাজে।
আর মজার ব্যাপার হলো, চুলকানোর কথা পড়তে পড়তেই হয়তো শরীরের কোথাও চুলকানি শুরু হয়ে যেতে পারে।
ঢোক গিলতেও প্রায় দুই বছর!
এবার আসি এমন এক কাজের কথায়, যা এই লেখা পড়ার মধ্যেই পাঠক কয়েকবার করে ফেলেছে। আর তা হলো ঢোক গেলা।
বিবিসি সায়েন্স ফোকাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন মানুষ দিনে অন্তত ৫০০ বার ঢোক গিলতে পারে। আর এর বেশিরভাগই কিন্তু খাবার খাওয়ার সময় হয় না। বরং হয় মুখে তৈরি হওয়া লালা সারাক্ষণই অল্প অল্প করে গিলতে গিলতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক অবস্থায় মিনিটে প্রায় ১ দশমিক ৩২ বার পর্যন্ত ঢোক গেলার হার হতে পারে। অর্থাৎ দিনে প্রায় ২ হাজার বার!
এই হিসাব ৮০ বছরের জীবনে ধরলে শুধু ঢোক গিলতেই কেটে যেতে পারে প্রায় এক বছর নয় মাস।
অবশ্য এসব হিসাব সবার ক্ষেত্রে এক হবে না। কারণ মানুষের বয়স, অভ্যাস, কাজ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। এগুলো মূলত গড় হিসাব ধরে করা একটি অনুমান।