এবার কানাডাকে ‘ভাঙতে’ চায় যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন সেনারা প্রথমে বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে হামলা চালাবে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের দখল নেবে। সাগরের নিচে ক্যাবলগুলো কেটে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবে। সেতু-রেললাইন-অবকাঠামো ধ্বংস করবে। নদী-হ্রদের পারে বড় বড় শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে, যাতে কেউ প্রতিরোধ গড়তে না পারে।
চারদিক থেকে হামলা চালানো হবে। স্থল ও নৌ বাহিনীর পর পদাতিকরা ঢুকবে।
—এটি কোনো হলিউডি সিনেমার চিত্রনাট্য নয়। এটি কানাডা দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার অংশবিশেষ।
গত ২৭ জানুয়ারি ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়। এর শিরোনাম ছিল, ‘১৯৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেশী কানাডা দখলের পরিকল্পনা করেছিল। ট্রাম্প সেই পুরোনো ভয় আবার জাগিয়ে দিচ্ছেন’।
প্রতিবেদন অনুসারে—১৯৩০ সালে কানাডা দখলের এমন পরিকল্পনা যারা করেছিলেন তাদের প্রত্যাশা ছিল কানাডায় মার্কিন হামলাটি স্বল্পস্থায়ী হবে। কয়েকদিনের মধ্যে মার্কিন সেনাদের হাতে দেশটির পতন হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেই একদা অতীব গোপন পরিকল্পনাটি ‘ওয়ার প্ল্যান রেড’ নামে পরিচিত।
কৃত্রিম সীমান্ত?
পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সীমান্তরেখা হিসেবে সুপরিচিত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমানা। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখাও। প্রায় ৮ হাজার ৮৯১ কিলোমিটারের বিদ্যমান এই সীমান্তকে এখন ‘বিতর্কিত’ করতে চাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাক্ষমতাধর রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার সীমানা প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। এই সীমানারেখাকে আর সম্মান দিতে চাচ্ছেন না তিনি।
কানাডার প্রায় ২০০ বছর পুরোনো দৈনিক দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল জানায়—সম্প্রতি কানাডার সেনারা বহিঃশত্রুর হাতে তাদের দেশ দখলের একটি কাল্পনিক ‘মডেল’ তৈরি করেছে। সেখানে শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের কৌশল তুলে ধরা হয়েছে।
গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়—সেই মডেলে আফগানিস্তানে রুশ ও মার্কিন সেনাদের হামলা ঠেকানোর কৌশলগুলো অনুসরণ করা হয়েছে।
মূলত একটি প্রচলিত যুদ্ধের রূপরেখায় সেই মডেলটি সাজানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শান্তির দেশ হিসেবে পরিচিত কানাডাকে এখন বাইরের হামলা মোকাবিলার কৌশল হিসেবে এসব করতে হচ্ছে। কেননা, গত বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রতিবেশী কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম’ অঙ্গরাজ্য বলার পাশাপাশি, দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে ডেকেছেন। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বর্তমান রাজনৈতিক সীমানাকে ‘কৃত্রিম’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে যারপরনাই বিব্রত অটোয়া।
গত জানুয়ারির শুরুতে মহাক্ষমতাধর ট্রাম্পের নির্দেশে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে সে দেশের রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা অপহরণ করলে বিদ্যমান বিশ্বরাজনীতির খোলনলচেই পাল্টে যায়। এরপর যোগ হয়, ডেনমার্কের স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের ওপর ট্রাম্পের নজর।
প্রয়োজনে সেনা অভিযান চালিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকি দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানের ভূমিকা নিয়ে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি তার বক্তব্যে প্রাচীনকালের ‘মাৎস্যন্যায়’ ও মধ্যযুগের ‘ম্যাকিয়াভেলীয়’ নীতি আধুনিককালে ফিরে আসার আশঙ্কা করেছেন।
বিশ্বব্যবস্থায় আবারও সেসব পুরোনো অরাজকতার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে কানাডার নেতা সবাইকে সতর্ক করেছেন।
কার্নির সামনেই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘বহু বছর আগে সেই সীমানাটা আঁকা হয়েছিল। যেন, আমাদের দেশের মাথার ওপর স্কেল ধরে লম্বা দাগ টেনে দেওয়া হয়েছে।’ ট্রাম্প উত্তর আমেরিকাকে একটি একক দেশ হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন।
গত ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলার মানচিত্রে মার্কিন পতাকাসহ ছবি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তার এমন কাজ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় নতুন করে অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।
সংবাদ প্রতিবেদনগুলোয় বলা হচ্ছে—কানাডাবাসী ট্রাম্পের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ সম্পর্কিত মন্তব্যকে রসিকতা হিসেবে গণ্য করছেন না। তারা একে দেখছেন ভয়াবহ হুমকি হিসেবে।
অ্যালবার্টায় ‘বিচ্ছিন্নতাবাদ’
গত ২৪ জানুয়ারি বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়—মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট কানাডার অ্যালবার্টা প্রদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাচারাল পার্টনার’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মন্টানার সীমানাবর্তী কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ অ্যালবার্টার প্রাকৃতিকসম্পদের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি সেগুলো কাজে লাগানোর কথা বলেন।
বেসেন্ট বলেন, ‘আমি মনে করি, তাদেরকে (অ্যালবার্টা) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত। অ্যালবার্টা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাভাবিক অংশীদার। তাদের অনেক প্রাকৃতিকসম্পদ আছে। অ্যালবার্টার মানুষ খুবই স্বাধীনচেতা।’
অ্যালবার্টার অর্থনৈতিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন এক শীর্ষ কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে অটোয়া-ওয়াশিংটন সম্পর্ক বেশ ‘শীতল’ হয়েছে। কেননা, অ্যালবার্টার স্বাধীনতার জন্য প্রদেশটিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যালবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিলি স্মিথের মুখপাত্র এক বার্তায় বিবিসিকে জানান, অ্যালবার্টার প্রাকৃতিকসম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নেওয়ার জন্য নতুন নতুন পাইপলাইন তৈরিকে সবাই সমর্থন করে।
‘কিন্তু, অ্যালবার্টার মুখ্যমন্ত্রী বিশ্বাস করেন প্রদেশটির অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হতে চান না,’ বলেন মুখপাত্র।
গত ৩০ জানুয়ারি সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়: প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আশা করেন ট্রাম্প কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। অ্যালবার্টার ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’রা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার পর কানাডার প্রধানমন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়—অ্যালবার্টার স্বাধীনতার জন্য সই সংগ্রহ করা ব্যক্তিরা হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
কানাডার অপর প্রদেশ ব্রিটিশ কলম্বিয়ার মুখ্যমন্ত্রী ডেভিড ইবি এমন ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেব আখ্যা দিয়েছেন।
এভাবে এক একজনের কথা ও পালটা কথায় অ্যালবার্টার ‘স্বাধীনতা’র মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। সেই সঙ্গে কেবেক প্রদেশের স্বাধীনতার জন্য গণভোটের প্রসঙ্গও সামনে চলে আসছে।
অ্যালবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিলি স্মিথের মতে, তার প্রদেশের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ মানুষ অটোয়ার ওপর আস্থা হারিয়েছে। তবে তিনি তাদেরকে ‘দেশদ্রোহী’ বলতে চান না।
একে অপরের ওপর নির্ভরতা
গত বছর ৬ মে টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়—গত ২২ এপ্রিল সাময়িকীটিকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, প্রতিবছর কানাডার দেখভালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করা হয়। যদিও তার এমন দাবির সত্যতা সাময়িকীটি যাচাই করতে পারেনি।
গত ২০ জানুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুসারে—কানাডার রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ হয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। কানাডা এই নির্ভরতা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে চায়। কানাডার অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি হয় যুক্তরাষ্ট্রে।
বার্তা সংস্থাটির অপর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়—উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যে ‘আঙ্কেল স্যাম’ বা যুক্তরাষ্ট্র আধিপত্য বজায় রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে—যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডা। প্রতিবেশী দেশ দুটির মূল বাণিজ্য হয় গাড়ি, বস্ত্র ও জ্বালানি খাতে। ২০২৪ সালে কানাডা ছিল মার্কিন পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার। আমদানির দিক থেকে কানাডা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ।
এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ছিল ৯০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
অনেক বাণিজ্য বিশ্লেষকের মতে, কানাডা প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির ভাষ্য, ‘কানাডা টিকে আছে যুক্তরাষ্ট্রের কারণে নয়। কানাডা টিকে আছে কানাডাবাসীর কারণে।’
তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চান। জোর দিচ্ছেন চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে।
গত বছর জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প মিত্র দেশ কানাডার পণ্যের ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। চীনের সঙ্গে কানাডা বাণিজ্য বাড়ালে কানাডার পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রত্যাশিত শুল্ক আরোপের পর প্রতিশোধ হিসেবে উত্তরের দেশটির অন্টারিও প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডগ ফোর্ড তার প্রদেশে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশে রপ্তানির ওপর ২৫ শতাংশ সারচার্জ বসানোর ঘোষণা দিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ঝামেলা বাড়ায় তাহলে আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবো।’
এমনটি হলে কানাডার অন্টারিওর বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের বাড়তি টাকা গুণতে অথবা অন্ধকারে ডুবতে হবে।
অন্টারিওর মুখ্যমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ বন্ধের কথা কল্পনাও করে তাহলে তাদের ওপর ভয়াবহ বিপদ নেমে আসবে।’
তিনি আশা করেন কানাডা এমন কাজ করবে না।
শেষ কথা
আয়তনের দিক থেকে বাংলাদেশের প্রায় ৬৮ গুণ বড় কানাডা। প্রায় ৯৯ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭০ বর্গকিলোমিটারের সম্পদশালী দেশ কানাডার জনসংখ্যা ৪ কোটির মতো। অন্যদিকে, ৯৮ লাখ ৩৩ হাজার ৫২০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ৩৪ কোটির বেশি।
সমরশক্তি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের হিসাবে—সামরিক দিক থেকে বিশ্বের ১৪৫ দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এক নম্বরে। অন্যদিকে, কানাডার অবস্থান ২৮তম।
তবে অস্ত্রের দিক থেকে এই দুই প্রতিবেশীর তুলনা যাই হোক না কেন, কানাডার অখণ্ডতা নিয়ে দুঃশ্চিতায় অটোয়া।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি ফরেন পলিসি সাময়িকীর এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—‘যুক্তরাষ্ট্র আবারও কানাডার সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে’।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে—অটোয়া ও ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। কানাডাকে ‘বোর্ড অব পিস’ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় সেই দূরত্ব আরও প্রসারিত হচ্ছে। তবে সময়ই বলে দেবে অনড় অটোয়াকে কতটা টলাতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর কানাডাকে ‘ভাঙা’র প্রচেষ্টায় কতটা সফল হয় তার প্রশাসন।




