নিজের গানের মেধাস্বত্ব বিক্রি করলেন ব্রিটনি স্পিয়ার্স

স্টার অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয় পপ তারকারা তাদের নিজেদের গানের মেধাস্বত্ব নিজের কাছেই রাখতেন। তাদের ব্যবস্থাপকরা গান থেকে আসা আয়ের হিসাব কষতেন। কিন্তু সেদিন আর নেই। আজকাল অনেক শিল্পীই তাদের গানের মেধাস্বত্ত্ব বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন। 

এ তালিকায় সর্বশেষ যোগ দিলেন এককালের সুপারহিট মার্কিন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স। ‘...বেবি ওয়ান মোর টাইম’ ও ‘উপস...আই ডিড ইট এগেইন’-এর মতো অসংখ্য হিট গান গেয়ে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মন জয় করেছেন ব্রিটনি। 

আজ মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

বিনোদন সংবাদমাধ্যম টিএমজি জানিয়েছে, এ বিষয়ে ব্রিটনির সঙ্গে প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আইনি নথিতে অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণটি বিস্তারিত আকারে উল্লেখ করা হয়নি। 

২০২৩ সালে কানাডার পপ তারকা জাস্টিন বিবারও একইভাবে তার নিজের গানের মেধাস্বত্ব বিক্রি করেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটনির (৪৪) পাশাপাশি ব্রুস স্প্রিংস্টিন, বব ডিলান, শাকিরা ও কিস এর মতো বিখ্যাত শিল্পী ও ব্যান্ড তাদের গানের মেধাস্বত্ব বিক্রি করেছে।

 ব্রিটনির গানের মেধাস্বত্ব কিনে নিয়েছে প্রাইমারি ওয়েভ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে হুইটনি হিউস্টন, বব মার্লে ও প্রিন্সের মতো শিল্পীদের গানের মেধাস্বত্বের মালিকানা রয়েছে। 

যেকোনো গানের সম্প্রচার, অ্যালবাম বিক্রি, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে ব্যবহার থেকে রাজস্ব অর্জন করে থাকে প্রাইমারি ওয়েভের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। 

গানের মেধাস্বত্ব সংশ্লিষ্ট বাজার ক্রমশই সম্প্রসারিত হচ্ছে। শিল্পীরাও তাদের গানগুলো থেকে দীর্ঘমেয়াদে উপার্জন করার নতুন নতুন উপায় খুঁজে পাচ্ছেন। 
স্ট্রিমিং যুগে বিনিয়োগকারীদের কাছেও বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয়।

Britney spears

সনি, ইউনিভার্সাল ও ওয়ার্নারের মতো বিনোদন জগতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতে অনেক অর্থ বিনিয়োগ করেছে। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

পাশাপাশি রিকগনিশন মিউজিক গ্রুপ ও কনকর্ড মিউজিক পাবলিশিংয়ের মতো বিশেষায়িত বিনিয়োগকারীরাও এ বিষয়ে খুব একটা পিছিয়ে নেই।

৯০ এর দশকে একের পর এক হিট উপহার দিয়ে নাচে-গানে বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন ব্রিটনি।

এমটিভির মতো মিউজিক চ্যানেলের পর্দায় তার সার্বক্ষণিক উপস্থিত সবার নজর কেড়েছিল। কিন্তু এখন সেই এমটিভিও নেই আর ব্রিটনির সুদিনও অনেক আগেই ফেরারি হয়েছে। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গানের পরিবর্তে বিতর্ক আর কেলেঙ্কারির কারণে বারবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন ব্রিটনি। 

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ব্রিটনির আর্থিক বিষয়গুলোর দেখভাল করেন তার ম্যানেজার। ব্রিটনির বাবা জেমি স্পিয়ার্স নিজেই এই দায়িত্ব পালন করেন। 

এক পর্যায়ে ব্রিটনি দাবি করেন, বরাবরই তার বাবা তাকে ঠকিয়ে এসেছেন। তার কারণে নিদারুণ আর্থিক ক্ষতির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন ব্রিটনি। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়। 

২০২১ সালে আদালতের নির্দেশে ব্রিটনির সঙ্গে তার ম্যানেজারের ১৩ বছরের চুক্তি বাতিল হয়। 

২০২৩ সালে সর্বশেষ উইল.আই.এম এর সঙ্গে একটি ডুয়েট প্রকাশ করেন ব্রিটনি। ‘মাইন্ড ইওর বিজনেস’ নামের ওই গানের পর আর নতুন কোনো গান বা অ্যালবাম প্রকাশ করেননি ওই শিল্পী। 

এর আগে ২০১৬ সালে সর্বশেষ গ্লোরি নামের অ্যালবামটি প্রকাশ করেন তিনি। 

২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটনি জানান, তিনি আগের মতো আর কখনোই গানের জগতে ফিরবেন না। তবে সাময়িক ভাবে ফিরতে পারেন।