আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

প্রতিবেশী আফগানিস্তানের ভেতরে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আফগান সরকার জানিয়েছে, হামলায় অনেকে হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে নারী-শিশুও রয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে দুই দেশ সংঘাতে জড়িয়েছিল। তখন উভয়পক্ষের ৭০-এরও বেশি মানুষ নিহত হন। সেই ঘটনার পর এটিই সবচেয়ে বড় হামলা। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

রোববার সকালে প্রকাশিত ২১ ফেব্রুয়ারির এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সামরিক বাহিনী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীর সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানায় হামলা চালিয়েছে।  

একই বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, স্পষ্ট প্রমাণ আছে যে টিটিপি আফগানিস্তানে থাকা তাদের নেতাদের নির্দেশে পাকিস্তানে সাম্প্রতিক হামলাগুলো চালিয়েছে।

আফগানিস্তান জানিয়েছে, হামলাগুলো নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে চালানো হয়েছে, যেখানে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে লিখেছেন, পাকিস্তানি জেনারেলরা তাদের দেশের নিরাপত্তার ঘাটতি ঢাকতে এই ধরনের অপরাধে লিপ্ত হচ্ছেন।

এএফপির এক সাংবাদিক নানগারহার জেলার বিহসুদ এলাকায় দেখেছেন, হামলার পরে মানুষ ধ্বংসাবশেষের নিচে হতাহতদের খুঁজে পেতে বুলডোজার ব্যবহার করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আফগান এক নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, বিহসুদে একটি বাড়ি লক্ষ্য করে হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জন শিশু ও কিশোর।

পাকিস্তান বলেছে, ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ এবং উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে সাম্প্রতিক অন্যান্য আত্মঘাতী হামলার জবাবে এসব চালানো হয়েছে, যার মধ্যে শনিবারের হামলাও রয়েছে।

উভয়পক্ষের উত্তেজনার কারণে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্রসিং বারবার বন্ধ হয়েছে এতে বাণিজ্য ও সীমান্ত পারাপার ব্যাহত হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে সংঘর্ষের পর দুই পক্ষই একটি অস্থায়ী শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু ইসলামাবাদ এখনো আফগানিস্তানের তালেবানদের দিকে এই বলে আঙুল তুলছে যে তারা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল তা বারবারই অস্বীকার করেছে।