জীবনে কোনো ম্যাচে এতটা চাপ অনুভব করিনি: এনগিডি
ক্রিকেট নাকি রূপালি পর্দার কোনো রোমাঞ্চকর সিনেমা— বোঝা দায়। বারবার ম্যাচের রং বদলাল, উত্তেজনা ছড়াল প্রতিটি বাঁকে। নির্ধারিত ২০ ওভারের লড়াই টাই হলো, খেলা গড়ালো সুপার ওভারে। সেখানেও অবিশ্বাস্য কাণ্ড! শেষ বলের ছক্কায় সুপার ওভারও টাই। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার দেখা গেল ডাবল সুপার ওভার।
তবে আহমেদাবাদে বুধবার 'ডি' গ্রুপের ম্যাচে দ্বিতীয় সুপার ওভারের স্নায়ুচাপ আর কুলিয়ে উঠতে পারেনি আফগানিস্তান। রুদ্ধশ্বাস এই স্মরণীয় দ্বৈরথে শেষ হাসি হেসেছে দক্ষিণ আফ্রিকাই। রহমানউল্লাহ গুরবাজের টানা তিন ছক্কা ছাপিয়ে তারা জিতেছে ৪ রানের ব্যবধানে।
রানবন্যার লড়াইয়ের মূল ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার লুঙ্গি এনগিডি। ২৬ রানে তার শিকার ৩ উইকেট। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ক্রিকেট মাঠে এত চাপ কখনও অনুভব করেননি, 'আজ অনেকটা ওজন কমে গেছে! আমার জীবনে কোনো ক্রিকেট ম্যাচে এতটা চাপ অনুভব করিনি। শেষ পর্যন্ত জিততে পেরে খুশি। জানতাম, আমাকেই হয়তো সুপার ওভারে বল করতে হবে। অধিনায়ক বলেছিল, একই কৌশলে বল করতে। প্রথম (সুপার) ওভারে প্রত্যাশা অনুযায়ী বল করতে পারিনি, পরিকল্পনা কাজে লাগেনি।'
একই ভেন্যুতে বিশ্বকাপের আগের ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে ৩১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন এনগিডি। সেদিনও ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ২৯ বছর বয়সী এই ডানহাতি বোলার। দুই ম্যাচ মিলিয়ে তার উইকেটসংখ্যা বেড়ে হলো সাতটি। এদিন প্রথম সুপার ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কায় ১৭ রান দিলেও মূল ম্যচে তিনি ছিলেন ভীষণ আঁটসাঁট।
নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে ১৮৭ রান তোলার পর আফগানিস্তান ১৯.৪ ওভারে অলআউট হয় ১৮৭ রানেই। এরপর প্রথম সুপার ওভারেও দুই দল সমান ১৭ রান করে তোলে। তবে দ্বিতীয় দফায় ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টান স্টাবস মিলে ২৩ রান তুললে আর পেরে ওঠেনি আফগানরা।
লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ নবি যখন কেশব মহারাজের শিকার হন, আফগানিস্তানের স্বপ্ন তখনই শেষ বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু নাটকের বাকি ছিল অনেক! শেষ ৪ বলে ২৪ রানের সমীকরণে টানা তিনটি ছক্কা মেরে খেলা ভীষণভাবে জমিয়ে তোলেন গুরবাজ। ওয়াইডের কল্যাণে শেষ বলে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫ রান। এমনকি তৃতীয় সুপার ওভারের সম্ভাবনাও জেগে ওঠে! তবে এবার আর ভুল করেননি মহারাজ। পয়েন্টে গুরবাজের ক্যাচ মিলারের হাতে জমা পড়তেই উল্লাসে মাতে প্রোটিয়ারা।
টানা দ্বিতীয় জয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইটে খেলার সম্ভাবনা জোরাল করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে, দুই ম্যাচেই হেরে আসর থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছে আফগানিস্তান।