‘কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না’, কেন স্পেনের ওপর এত ক্ষিপ্ত ট্রাম্প

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানে হামলার জন্য নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ইউরোপের মিত্র স্পেনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দেশটির সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানেই তিনি স্পেনের প্রতি তার ক্ষোভের কথা জানান।

ট্রাম্প বলেন, ‘স্পেন ভয়াবহ আচরণ করেছে। আমি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে বলেছি স্পেনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে। আমরা স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেব। তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।’

এর আগে স্পেন সরকার সাফ জানিয়ে দেয় যে, ইরানে হামলায় তারা তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। এর জেরে স্পেনের রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ১৫টি উড়োজাহাজ ও রিফুয়েলিং ট্যাংকার সরিয়ে নেয়।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, স্পেন ন্যাটোর প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি। তিনি বলেন, ‘স্পেনের এমন কিছুই নেই যা আমাদের প্রয়োজন। স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ করার অধিকার আমার আছে। আমি অবরোধ দিতে পারি, যা খুশি করতে পারি।’

তবে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ট্রাম্পকে জানিয়ে দিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে স্পেনের সঙ্গে আলাদাভাবে কোনো বৈরী আচরণ করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনা করলে একসঙ্গে করব, অথবা করব না। স্পেনের সঙ্গে আলাদা করে খারাপ আচরণ করা হবে তা আমরা মানব না।’

বৈঠকে ট্রাম্প তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের মতামত জানতে চান। গ্রিয়ার বলেন, ‘জাতীয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজন হলে আমরা তা করব।’ বেসেন্ট জানান, সুপ্রিম কোর্ট ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) আইনের অধীনে প্রেসিডেন্টের অবরোধ আরোপের ক্ষমতা বহাল রেখেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইউএসটিআর দেখবে কীভাবে অন্যান্য বাণিজ্য আইনের আওতায় স্পেনকে শাস্তি দেওয়া যায়।

এদিকে স্পেন সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই মুক্ত বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক আইন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। মাদ্রিদ আরও জানায়, সম্ভাব্য বাণিজ্য অবরোধের প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং তাদের কোনো খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই সহায়তা দেওয়া হবে।

স্পেন বিশ্বের শীর্ষ জলপাই তেল রপ্তানিকারক দেশ। এ ছাড়া তারা যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইস্পাত ও রাসায়নিক পণ্য রপ্তানি করে। তবে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় স্পেনের ওপর ট্রাম্পের অর্থনৈতিক শাস্তির প্রভাব কম পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র স্পেনে ২৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং আমদানি করেছে ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। 

স্পেনের বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এর আগেও ইসরায়েলের উদ্দেশে পাঠানো অস্ত্রবাহী জাহাজ তার দেশের বন্দরে নোঙর করতে না দিয়ে ট্রাম্পের বিরাগভাজন হয়েছিলেন।