হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পেতে ইরানের সঙ্গে ফ্রান্স-ইতালির আলোচনা শুরু
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা চেয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাতে আজ শনিবার সংবাদ মাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস (এফটি) এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে জ্বালানি পরিবহন অব্যাহত রাখতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা খুঁজছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ফ্রান্স ও ইতালি।
আলোচনা সম্পর্কে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন কর্মকর্তা এফটিকে জানিয়েছেন, সংঘাত আরও না বাড়িয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুনরায় শুরু করতেই ইউরোপের দেশগুলো এ উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও শিপিং কোম্পানিগুলো সম্ভাব্য নিরাপত্তার জন্য পশ্চিমা নৌবাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে।
ওই তিন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ফ্রান্স এই আলোচনায় যুক্ত রয়েছে। ইতালিও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হবে কি না বা ইরান আলোচনায় আগ্রহী কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়।’
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ফ্রান্স তার জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজে অংশ নিতে পারে।’
অন্যদিকে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো জানিয়েছেন, ইউরোপ তার অবস্থান থেকে তেহরানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছে। যেসব দেশ যুদ্ধে জড়িত নয় তাদের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে না। তবে বর্তমানে সৌদি আরবে সফরত ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তেল সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেলের দাম বাড়াতে ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে ইরান। তবে গতকাল শুক্রবার তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আব্দুল কাদির উরালোগলু জানিয়েছেন, তুরস্কের মালিকানাধীন একটি বাল্ক ক্যারিয়ারকে প্রণালি পার হয়ে আরব সাগরের দিকে যেতে দেওয়া হয়েছে।
এটি সাম্প্রতিক সময়ে খুব অল্প সংখ্যক জাহাজের একটি, যেগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি এই সংঘাতে জড়াতে চায় না। বরং ইউরোপের অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার সমালোচনাও করেছে।
চলতি বছরের শুরুতে যেখানে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬০ ডলার, সেখানে এখন তা বেড়ে ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে।
এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জ্বালানির দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
ইতালি, ফ্রান্স ও গ্রিস বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অপারেশন অ্যাসপাইডস’ মিশনের অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন রেখেছে।
তবে হামলার ঝুঁকি এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজকে নিরাপত্তা দিচ্ছে না ইউরোপীয় নৌবাহিনী।
গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হয়।