ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ৫ শতাংশ
ইরানে পারস্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আজ বুধবার বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ বুশেহর প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান জানিয়েছেন যে, সাউথ পারস স্পেশাল ইকোনমিক এনার্জি জোনে অবস্থিত গ্যাসক্ষেত্রে হামলা হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পরপরই বেড়ে গেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।
এএফপি জানায়, ইরানের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার খবরের পর বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেলের দাম হয়েছে ১০৮ দশমিক ৬০ ডলার।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলের বাজার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেলের দাম হয়েছে ৯৮ দশমিক ০১ ডলার।
এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছে।
ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া' এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ভয়াবহ আঘাত হানবে এবং যেসব দেশ থেকে এ হামলা চালানো হয়েছে সেসব দেশের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
উল্লেখ্য, সাউথ পারসের এই গ্যাসক্ষেত্রটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই এখান থেকে সরবরাহ করা হয়। এই বিশাল গ্যাসক্ষেত্রের মালিকানা যৌথভাবে কাতার ও ইরানের।
হামলার নিন্দা জানিয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ হামলা একটি বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এক্স পোস্টে লিখেছেন, 'ইরানের সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলা একটি বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। এই ক্ষেত্রটি কাতারের নর্থ ফিল্ডের অংশ।'
তিনি আরও বলেন, 'জ্বালানি অবকাঠামোতে এ ধরনের হামলা বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা, সাধারণ মানুষ ও পরিবেশের জন্য চরম হুমকি।'
গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েল এই গ্যাসক্ষেত্রে ইরানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।