শ্রীলঙ্কায় এলপিজির দাম ২৩ শতাংশ বাড়ল

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ব বাজারে তৈরি হয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। প্রায় প্রতিদিন তেল-গ্যাসের দাম ওঠানামা করছে। এর সর্বশেষ বলি হয়েছে শ্রীলঙ্কা। 

আজ সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাসের দাম প্রায় এক চতুর্থাংশ বেড়েছে। 

গ্যাসের পাশাপাশি তেলের জন্যেও আমদানির ওপর নির্ভরশীল শ্রীলঙ্কা। এমন কী, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কয়লাও দেশের বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসে কলম্বো। 

২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয় ঘটে। 
সরকার পতন ও নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দ্রুত ওই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল দেশটি। 

তবে কলম্বো হুশিয়ারি দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘ দিন ধরে চললে ‘ঘুরে দাঁড়ানোর’ প্রক্রিয়া বড় আকারে বাধার মুখে পড়বে। 

গত মাসে আট শতাংশ বেড়েছিল এলপিজির দাম। 

শ্রীলঙ্কার স্থানীয় এলপিজি বাজারের ২৫ শতাংশ এলএইউজিএফএস নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে। 

ওই প্রতিষ্ঠানটি খুচরা বাজারে সাড়ে ১২ কেজি ধারণ ক্ষমতার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৭০ রুপি বাড়িয়ে পাঁচ হাজার ৭০০ রুপি (১৮ ডলার আট সেন্ট) করেছে। 

ওই সিলিন্ডারের আগের দাম ছিল চার হাজার ৬৩০ রুপি(১৪ ডলার ৬৯ সেন্ট), যা বর্তমান দামের চেয়ে ২৩ শতাংশ কম। 

অপরদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান লিট্রো গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি দাম ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ বাড়িয়েছে। লিট্রো গ্যাসের সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এখন চার হাজার ৭৬৫ রুপি। আগের দাম ছিল তিন হাজার ৯৯০ রুপি। 

হরমুজ প্রণালি। প্রতীকী ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালি। প্রতীকী ছবি: রয়টার্স

 

লিট্রো গ্যাসের মুখপাত্র বলেন, ‘এপ্রিল মাসের জন্য যথেষ্ঠ গ্যাস আমাদের হাতে আছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে এলপিজির মূল্য বৃদ্ধি ও জাহাজীকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা মূল্য বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। 

চলমান সংঘাতের জেরে গত মাসে শ্রীলঙ্কা জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য এক তৃতীয়াংশ করে বাড়াতে বাধ্য হয়। 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের শুরু থেকেই তেল-গ্যাস রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ আছে। ওই পথ দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল-গ্যাস রপ্তানি হয়। পাশাপাশি, এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ এই পথে আসা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।