মার্কিন দূতাবাসগুলোকে ‘অবিলম্বে’ নিরাপত্তা পর্যালোচনার নির্দেশ পররাষ্ট্র দপ্তরের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন কূটনৈতিক মিশনকে ‘অবিলম্বে’ নিরাপত্তা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সই করা এক বার্তায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, সব মিশনকে ইমার্জেন্সি অ্যাকশন কমিটির (ইএসি) সঙ্গে বৈঠক করে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত ও নিরাপত্তা অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের মিশনগুলোতে এমন নির্দেশনা থাকলেও, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী সব মিশনকে এই নির্দেশ দেওয়া হলো।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছে, ইএসি বৈঠক তাদের নিয়মিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার অংশ।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো একাধিক মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে কয়েকটি মিশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে এবং কিছু দেশে মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলায় ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে টরন্টোতে কনস্যুলেটের বাইরে গুলি ও অসলোতে দূতাবাস সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
নতুন কোনো নির্দিষ্ট হুমকির কারণে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, বিশ্বাসযোগ্য হুমকির তথ্য মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার নীতি বহাল রয়েছে।
একটি বার্তায় বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর ২৯২টি হামলা চালিয়েছে, যা ‘অবিরাম’ হুমকি তৈরি করেছে। কিছু ক্ষেত্রে সশস্ত্র ব্যক্তিরা মার্কিন নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টাও করেছে।
আরেক ঘটনায় ইসরায়েলে মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের আবাসস্থল একটি ভবনে একটি বিস্ফোরিত না হওয়া ইরানি ব্যালিস্টিক ওয়ারহেড আঘাত হানে। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তা সতর্কতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।