শত্রুদের হিসাব ভুল, ইরানিদের মধ্যে ‘অভূতপূর্ব ঐক্য’ তৈরি হয়েছে: মোজতবা খামেনি
শত্রুরা ভুল হিসাব করেছে, ইরানিদের মধ্যে ‘অভূতপূর্ব ঐক্য’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
আল জাজিরা জানায়, আজ শুক্রবার ইরানের নববর্ষ ‘নওরোজ’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এমন মন্তব্য করেন খামেনি।
ভাষণে তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে আগামী বছরকে ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’র বছর হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এ ভাষণে তিনি বলেন, 'জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় নিরাপত্তার ছায়াতলে এই উৎসব উদযাপিত হতে হবে।'
খামেনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করছিল যে ইরানে হামলার দুয়েকদিনের মধ্যেই জনগণ সরকারের পতন ঘটাবে। তিনি এটিকে 'শত্রুপক্ষের মারাত্মক ভুল হিসাব' বলে মনে করেন।
মোজতবা খামেনি বলেন, 'এই যুদ্ধের শুরুতে তারা ভেবেছিল যে শীর্ষ নেতৃত্ব ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা শাহাদাত বরণ করেন, তবে জনগণের মধ্যে ভয় ও হতাশা তৈরি হবে এবং এর মাধ্যমে ইরানকে নিয়ন্ত্রণ ও পরবর্তীতে খণ্ড-বিখণ্ড করার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।'
'কিন্তু এটা হয়নি। ইরানিদের মধ্যে একটি "অভূতপূর্ব ঐক্য" তৈরি হয়েছে। ধর্মীয়, বুদ্ধিভিত্তিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এই ঐক্য গড়ে উঠেছে, যেখানে উল্টো শত্রুদের মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে,' বলেন তিনি।
এদিকে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ‘বাস্তবতা বিবর্জিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, 'মার্কিন সরকার বলছে এক কথা, কিন্তু বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। ঠিক যখন মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করছে, তখনই তাদের এফ-৩৫ উড়োজাহাজ ভূপাতিত হচ্ছে।'
'যখন তারা ঘোষণা করছে যে ইরানের নৌবাহিনী শেষ, ঠিক তখনই ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড ফিরে যাচ্ছে এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন আরও দূরে সরে যাচ্ছে,' বলেন আরাঘচি।
ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের ভিয়েতনাম যুদ্ধের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে বলেন, 'ভিন্ন দশক, কিন্তু সেই একই পুরোনো বুলি।'