যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি রাউটার ব্যবহার নিষিদ্ধ হলো যে কারণে

স্টার অনলাইন ডেস্ক

চীনের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড টিপি লিংকসহ সব ধরনের বিদেশি ইন্টারনেট রাউটারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

আজ মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসি। 

গতকাল সোমবার ‘ব্যবহারের জন্য যথেষ্ঠ নিরাপদ নয়’ এমন সরঞ্জামের হালনাগাদ তালিকায় বিদেশি রাউটার যোগ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।  

দেশটির কেন্দ্রীয় যোগাযোগ কমিশন (এফসিসি) এই তালিকা প্রকাশ করেছে। 

এফসিসি লোগো। ছবি: Collected
এফসিসি লোগো। ছবি: সংগৃহীত

 

বস্তুত, নতুন তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নির্মাণ হয় এমন সকল রাউটার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। 

বাসায় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ দিতে অত্যাবশ্যক উপকরণ রাউটার একটি বহুল ব্যবহৃত প্রযুক্তি পণ্য। এর মাধ্যমে ফোন, টিভি, কম্পিউটার, গেমিং কনসোল ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস ওয়াইফাই ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। 

এর আগে, গত বছরের শেষ নাগাদ বিদেশে নির্মিত ড্রোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করে ওয়াশিংটন

এফসিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘বিদেশে নির্মিত রাউটারে নিরাপত্তা ঘাটতির ফায়দা নিয়ে কিছু দুষ্কৃতিকারী যুক্তরাষ্ট্রের ঘরে ঘরে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে হামলা ও বিঘ্ন সৃষ্টি, গুপ্তচরবৃত্তি ও মেধাসত্ত্ব চুরির মতো অপরাধে মেতে উঠেছে।’

এফসিসি নিশ্চিত করেছে, যারা ইতোমধ্যে বিদেশি রাউটার ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। 

তবে নতুন করে কেউ আর দেশের বাইরে নির্মিত রাউটার কিনতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না। 

এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার। ছবি: রয়টার্স
এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান কার। ছবি: রয়টার্স

 

রাউটারের মাধ্যমে খুব সহজেই দুষ্কৃতিকারীরা নেটওয়ার্কে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করতে পারেন—এমন উদ্বেগ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

গত বছর বেশ কয়েক দফা সাইবার হামলা হওয়ার পর মার্কিন রাজনীতির অঙ্গনে রাউটার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। 

অনলাইন পোর্টাল অ্যামাজনে সর্বাধিক বিক্রি চীনা রাউটার টিপি-লিংক উদ্বেগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নির্মিত কোনো রাউটার আমদানি, বাজারজাতকরণ বা বিক্রির আগে এফসিসির অনুমোদন নিতে হবে। 

ওই অনুমোদন পেতে পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘ পথ। 

প্রথমত, শর্তাধীনে অনুমোদন পেতে রাউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সকল বিনিয়োগকারী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় এফসিসিকে জানাতে হবে। পাশাপাশি, রাউটারের নির্মাণ কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও উপস্থাপন করতে হবে। 

এফসিসি জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা দপ্তর বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে কয়েকটি বিদেশি রাউটার নিষিদ্ধ তালিকা থেকে ছাড় পেতে পারে। তবে এখনো ওই দুই দপ্তর কোনো রাউটারের নাম উল্লেখ করেনি। 

TP-Link Archer BE3600 on a kitchen counter
আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় রাউটার টিপি-লিংক। ছবি: সংগৃহীত

 

শুক্রবার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে এমন কয়েকটি সরকারি সংস্থা জানায়, বিদেশে নির্মিত ইন্টারনেট রাউটার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘উল্লেখযোগ্য হুমকির’ কারণ হতে পারে। ওই ঘোষণার পরই এলো এফসিসির এই সিদ্ধান্ত। 

সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে মার্কিন সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রভাবিত করা ও জননিরাপত্তা ও অবকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে এমন সাইবার হামলার কথা বলা হয়েছে।  

এফসিসি উল্লেখ করে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভোল্ট, ফ্ল্যাক্স ও সল্ট টাইফুন নামে পরিচিত তিনটি সাইবারহামলার পেছনে রাউটার দায়ী। 

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে ওই তিন হামলার জন্য চীনকে দায়ী করা হয়েছে। 

বেশিরভাগ ইন্টারনেট রাউটারই তাইওয়ান ও চীনে নির্মাণ হয়। 

রাউটারের ডিজাইন যুক্তরাষ্ট্রে, কিন্তু নির্মাণ বিদেশে হলে সে রাউটারও নিষেধাজ্ঞার আওতাও পড়বে। 

মার্কিন রাউটার ব্র্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো নেটগিয়ার। তবে মার্কিন প্রতিষ্ঠান হলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে উৎপাদন করে না।  

বড় ব্র্যান্ডের মধ্যে শুধু ইলন মাস্কের স্টারলিংকই দাবি করে যে তাদের ইন্টারনেট সংযোগে ব্যবহৃত রাউটার গুলো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে নির্মাণ হয়।