মাখোঁর স্ত্রী তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন: ট্রাম্প
ইসরায়েলকে পাশে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মজার বিষয় হলো, এ যুদ্ধে তিনি একজন ইউরোপীয় মিত্রকেও সক্রিয় ভূমিকায় পাননি।
হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত করার জন্য যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সের কাছে সাহায্য চেয়েও নিরাশ হতে হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টকে।
স্বভাবতই, মিত্রদের ওপর চটেছেন রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প। রসিকতাচ্ছলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর প্রতি তার অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।
আজ বৃহস্পতিবার এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।
গতকাল বুধবার একটি ব্যক্তিগত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন ট্রাম্প। সে সময় ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে রসিকতা করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ন্যাটো জোটের মিত্রদের অনুপস্থিতিরও করা সমালোচনা করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলে ওই ব্যক্তিগত মধ্যাহ্নভোজের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিল।
ভিডিওতে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার তাদেরকে দরকার ছিল না, তাও আমি আহ্বান জানিয়েছিলাম।
‘আমি ফ্রান্সকেও ডাকলাম। সেই মাখোঁকে ডাকলাম, যার স্ত্রীর তার সঙ্গে অনেক দুর্ব্যবহার করে’, যোগ করেন ট্রাম্প।
এরপর ট্রাম্প ইঙ্গিত করেন, মাখোঁর ডান চোয়ালে তার স্ত্রী আঘাত করেন। সেই আঘাত থেকে এখনো পুরোপুরি সেরে উঠেননি ফরাসি নেতা।
২০২৫ সালের মে মাসে একটি ভিডিওতে এরকম একটি ঘটনা ধরা পড়ে।
ভিয়েতনাম সফরে গিয়েছিলেন মাখোঁ ও তার স্ত্রী ব্রিজিত। সে সময় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এক পলকের জন্য ব্রিজিতকে মাখোঁর মুখে ধাক্কা দিতে দেখা যায়। অনেকে মত দেন, মাখোঁকে ‘ধাক্কা নয়, চড়ই মেরেছেন’ তার স্ত্রী।
এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। অনেকেই দাবি করেন ‘পুরুষ নির্যাতনের স্বীকার’ মাখোঁ। স্ত্রীর ‘দুর্ব্যবহারের’ বিষয়টিও এভাবেই চাউর হয়।
তবে মাখোঁ বিষয়টিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে এড়িয়ে যান।
ট্রাম্প এরপর আরও বলেন, আমি তাকে বললাম, ‘ইমানুয়েল, উপসাগরীয় অঞ্চলে কিছুটা সহায়তা পেলে আমাদের ভালো লাগবে। যদিও ইতোমধ্যে আমরা খারাপ মানুষদের নির্মূল করা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অকেজো করার নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করে ফেলেছি। তা সত্ত্বেও, কিছুটা সহায়তা পেতে ভালোই লাগবে। যদি আপনার পক্ষে সম্ভব হয়, তাহলে অনুগ্রহ করে শিগগির জাহাজ পাঠান।’
তারপর তিনি মাখোঁর কণ্ঠ অনুকরণ করে ফরাসি উচ্চারণে ইংরেজি বলতে থাকেন।
তিনি বলেন, ‘না না না, আমরা সেটা পারব না। যুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরেই কেবল সেটা সম্ভব।’
এরপর আবার নিজের স্বাভাবিক কণ্ঠে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বললাম, না না। যুদ্ধে জেতার পর আর সেটার প্রয়োজন পড়বে না, ইমানুয়েল।’
ট্রাম্প এরপর ন্যাটোর সমালোচনায় মুখর হন।
‘আমি ন্যাটোর ব্যাপারে জানতে পারলাম—সবচেয়ে বড় বিপর্যয় আসলেও তারা আমাদের পাশে থাকবে না। বড় বিপর্যয় বলতে কি বুঝাচ্ছে, সেটা আপনারা সবাই জানেন।’
তিনি ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দেন।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ন্যাটোর সমালোচনায় মেতেছেন ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরান যুদ্ধের পর ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে আপলোড করা ট্রাম্পের মধ্যাহ্নভোজের ভিডিওটি অল্প সময়ের মধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়।

