থোরিয়ামভিত্তিক পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে ভারত
ভারত নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে।
স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক চুল্লিটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করেছে, যা জ্বালানি উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত জীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
দেশটি এ মুহূর্তে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ‘গ্রিনহাউস গ্যাস’ উদ্গিরণকারী দেশ হিসেবে বিবেচিত।
ইরান যুদ্ধের কারণে বন্ধ আছে হরমুজ প্রণালি। যার ফলে এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে।
এমন সময়ে এলো ভারতের এই অর্জনের খবর।
নয়াদিল্লি ২০৪৭ সাল নাগাদ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতাকে বর্তমানের আট গিগাওয়াট থেকে বাড়িয়ে ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
তামিলনাড়ু রাজ্যের কলপাক্কম শহরের অবস্থিত নতুন এই পারমাণবিক চুল্লীটি ‘প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (পিএফবিআর)’ ধরনের।
শক্তিশালী দেশ রাশিয়ার পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে এ ধরনের চুল্লী তৈরি করেছে ভারত।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, এই চুল্লী একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছুঁয়েছে। অবিলম্বে এর মাধ্যমে টেকসই পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা সম্ভব হবে, যা জ্বালানি উৎপাদনের পূর্বশর্ত।
গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে মোদি বলেন, ‘আজ ভারতের বেসামরিক পরমাণু প্রকল্প একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে পরমাণু প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানো হলো।’
‘এই অত্যাধুনিক চুল্লী যতটুকু জ্বালানি ব্যবহার করে, তার চেয়ে অনেক বেশি উৎপাদন করতে সক্ষম। এটা আমাদের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার গভীরতা ও প্রকৌশল খাতের শক্তিমত্তার প্রতিফলন’, যোগ করেন তিনি।
ভারতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় থোরিয়ামের মজুত আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের মোট মজুতের ১৩ থেকে ২৫ শতাংশই ভারতে আছে।
বহুল আলোচিত ইউরেনিয়ামের মতো থোরিয়ামও একটি উচ্চ মানের তেজস্ক্রিয় উপকরণ।
থোরিয়ামের এই সুবিশাল মজুতকে পরমাণু চুল্লীর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি। তার ভাষায়, ওই উদ্যোগের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে।
এখনো উল্লেখিত চুল্লীর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়নি। পরবর্তী পর্যায়ে ওই লক্ষ্য অর্জন হবে।
এমন সময় ভারত এই মাইলফলক অর্জন করল, যখন সারা বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকট ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশেষত, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে তেল-গ্যাসের সরবরাহ বড় আকারে বিঘ্নিত হয়েছে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভারত বড় আকারে কয়লার ওপর নির্ভরশীল। তবে দেশটি ২০৭০ সালের মধ্যে ‘শূন্য কার্বন উদ্গিরণ’ লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

