প্রথম আদেশেই যে চমক দেখালেন হ্লাইং

স্টার অনলাইন ডেস্ক

পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর মিয়ানমারে গণতন্ত্রের হাওয়া বইছে। অন্তত, বিষয়টিকে সেভাবে দেখাতে চাইছে ক্ষমতাসীন দল ও প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। 

শপথ নেওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক আদেশে চমক দেখানোর চেষ্টা করেছেন সেনাপ্রধান থেকে বেসামরিক রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা প্রেসিডেন্ট হ্লাইং।  

আজ শুক্রবার বিষয়টি এএফপির প্রতিবেদনে উঠে আসে। 

মিন অং হ্লাইং-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

তবে এই বার্তায় সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ধরে নেওয়া যায়, এটি একটি গণ-আদেশ। অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সব অপরাধীই এই সুবিধাটি পাবেন। 

এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে ৩৮ জন কয়েদীর মৃত্যুদণ্ড তুলে নেওয়া হয়। 

তবে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারে এরকম গণহারে শাস্তি কমানোর নজির নেই। 

মিয়ানমারের থিংগিয়ান উৎসব (নববর্ষ) উদযাপনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ‘ক্ষমা’ আদেশ দেয় সরকার।

মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি কমানোর পাশাপাশি এ বছর মোট চার হাজার ৩০০ কয়েদীকেও মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। 

১৭৯ জন বিদেশি নাগরিকও মুক্তি পাচ্ছেন। 

অন্যদের মধ্যে ৪০ বছরের কম কারাদণ্ড পেয়েছেন এমন কয়েদীদের শাস্তি ছয় ভাগের এক ভাগ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের তৎকালীন বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। ওই ঘটনার অল্প সময় পর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। কার্যত গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে মিয়ানমার। 

এ অবস্থায় সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং-এর নির্দেশে ভিন্নমতাবলম্বীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার হিড়িক পড়ে। 

জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে ১৩০ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে এর মধ্যে কতজনের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করা হয়েছে বা প্রকৃত সংখ্যাটি আদৌ আরও বেশি কী না, সেটা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। 

এ বছরের জানুয়ারিতে এক পাক্ষিক নির্বাচনে সেনা সমর্থিত রাজনৈতিক দল জয়লাভ করে। এরপর গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন সাবেক সেনাপ্রধান। 

গণতন্ত্র পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর অভিযোগ, এই নির্বাচন ও মিন অং হ্লাইং-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশের ক্ষমতা গ্রহণ কার্যত সেনাশাসনকে বৈধতা দেওয়ার শামিল। এটি এক ধরনের ‘ব্র্যান্ডিং’ ছাড়া আর কিছুই না—এমন মত দিয়েছে সংস্থাগুলো। 

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এই ব্র্যান্ডিং উদ্যোগে জান্তা সরকারের কিছু কঠোর নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এগুলো লোক-দেখানো কাজ ছাড়া আর কিছুই নয়। 

সামরিক সরকারের আমলে যত মানুষ সাধারণ ক্ষমা পেয়ে মুক্তি পেয়েছেন, তাদের ১৪ শতাংশের কম রাজনৈতিক কারণে বন্দী ছিলেন। 

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্স নামের সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সামরিক অভ্যুত্থানের পর ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে মিয়ানমারের বিভিন্ন কারাগারে আটক আছেন। 

তাদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত মানুষটি হলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সুচি। ২৭ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে তিনি এখনো গৃহবন্দী আছেন। 

অধিকার সংস্থাগুলোর মতে, রাজনৈতিক কারণেই আটক আছেন সুচি। 

জানুয়ারিতে সামরিক জান্তা আয়োজিত নির্বাচনে সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি পার্টিকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এমন কী, দলটির এখন আনুষ্ঠানিক কোনো অস্তিত্বও নেই। ক্যুর পর বিশেষ আদেশে সুচির দলকে নিষিদ্ধ করেন জেনারেল হ্লাইং। 

নির্বাচনে জয়ী আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্টে বিপুল ভোটে মিন অং হ্লাইংকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনয়ন দেন। 

পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করতে গত শুক্রবার তিনি শপথ নেন।