থাইল্যান্ডে বন্দুকধারী শিক্ষার্থীর গুলিতে নিহত ৮

স্টার অনলাইন ডেস্ক

থাইল্যান্ডে কিশোর শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। নিহতদের মধ্যে হামলাকারীর দুই আত্মীয় আছেন।

আজ শুক্রবার এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাজধানী ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশের দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।

থাই পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী প্রথমে তার দুই আত্মীয়কে গুলি করে হত্যা করে। এরপর আত্মীয়র পিস্তল নিয়ে স্কুলে গিয়ে তিন শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীকে গুলি করে।

দেশটির উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোলাপি সুবানচুই জানান, হামলায় আরও অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তবে তারা গুলিতে নয়, আতঙ্কে পালানোর সময় আহত হয়। হামলাকারী ওই স্কুলেরই কিশোর শিক্ষার্থী।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হামলার পর সে মারা গেছে। তবে তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ তাকে গুলি করেছে। আবার অন্য কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় একটি পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে। কিশোরটি কীভাবে অস্ত্রটি পেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর স্কুলের আশপাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্তানদের নিরাপদে বাড়ি নিয়ে যেতে অনেক অভিভাবক স্কুলে ছুটে আসেন।

থাইল্যান্ডে বাড়ছে বন্দুক হামলার ঘটনা

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগতভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার হার তুলনামূলক বেশি। ধারণা করা হয়, দেশটিতে প্রায় এক কোটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি সাতজন মানুষের বিপরীতে একটি বন্দুক। সরকার একাধিকবার বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার ঘোষণা দিলেও দেশটিতে হামলার ঘটনা থামেনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে এক কিশোর গুলি চালিয়ে প্রধান শিক্ষককে হত্যা এবং দুই শিক্ষার্থীকে আহত করে। ওই কিশোর হামলার আগে এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে ৯ মিলিমিটার পিস্তল ছিনিয়ে নিয়েছিল।

পরে জানা যায়, ঘটনার আগে সে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসাও নিয়েছিল।

এর আগে ২০২২ সালে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের একটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে বন্দুক ও ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়ে সাবেক এক পুলিশ সদস্য ২৪ শিশু ও ১২ জনকে হত্যার ঘটনা ঘটে।